বাকাশিবোমেটেপ ও বামেলটেকসো জরুরী প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মাস্ক না পরে বের হলে এক লাখ টাকা জরিমানা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী অবস্থা বেশী ভালো না

★ভর্তি বিজ্ঞপ্তি★ বাইতুল কোরআন ওয়ালীয়া মাদ্রাসা। মোক্তার বাড়ি রোড, আউচ পাড়া,টংঙ্গী গাজীপুর।

আসলে কি দরুদে ইব্রাহিম ছাড়া আর কোন দরুদ নেই! (নাউজুবিল্লাহ)-১ম পর্ব

♦আসলে কি দরুদে ইব্রাহিম ছাড়া আর কোন দরুদ নেই! (নাউজুবিল্লাহ)-১ম পর্ব
★১. প্রারম্ভিক আলোচনা: সমাজের মধ্যে কিছু ভাই এখন ওঠতে বসতে মানুষকে বুঝান যে,নামাজের ভেতরে ও বাহিরে আপনারা শুধু দরুদে ইবরাহিম পাঠ করুন।এটাই সুন্নাহ।এটা বুখারি শরীফে এসেছে।ওহে বন্ধুগন হাদিসের কিতাবসমূহ দেখুন সেখানে “দরুদে ইবরাহিম” নামে কোন দরুদের উল্লেখ আছে কী না! উত্তর আসবে, না, এই নামে কোন দরুদ কোন হাদিসের কিতাবে আসে নাই।হাদিসের কোন কিতাবে কোন পরিচ্ছেদ নাই এই নামে যে,দরুদে ইব্রাহিমের ফজিলত,দরুদে ইব্রাহিমের পরিচ্ছেদ।না এই নামে কোন কিছু নেই।
তবে হ্যাঁ,বুখারি শরিফের হাদিসে নামাজের মাঝে নবীজি ﷺ এঁর ওপর দরুদ পড়ার যে হাদিস এসেছে সেখানে নবী কারিম ﷺ শিখিয়েছেন,তোমরা এভাবে দরুদ পড়,আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবিরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ৷ আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ….
★সাহাবি এই হাদিসে নবিজি ﷺ কে প্রথমেই বলে নিয়েছেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা জানি কিভাবে আঁপনার ওপরে সালাম প্রেরণ করতে হয়।অর্থ্যাৎ তাশাহুদে আত্তাহিয়াতুতে আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু বলে আমরা সালাম দিই আঁপনি নবিকে-তা আঁপনি আমাদেরকে আগেই শিখিয়েছেন।তো নামাজে আঁপনার ওপর দরুদ কিভাবে পড়ব? এখানে একান্তই নামাজের তাশাহুদে কোন দরুদ পড়বেন তার আলোচনা হচ্ছে।
এই দরুদকে যদি কেউ দরুদে ইবরাহিম নাম দেন তো এটা হবে একটা বিদয়াত।এই দরুদের নামকরণ করতে হলে,দরুদে মুহাম্মাদ ﷺ নামে নামকরণ করতে হবে।কারণ মূলত প্রিয় নবিজি ﷺ এঁর ওপর দরুদ পড়তে গিয়েই ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ওপর দরুদ পড়ছি।তবে এই দরুদ কেউ চাইলে নামাজের বাহিরেও পড়তে পারেন,কিন্তু সওয়াব কম হবে।কারণ এই দরুদে সালাম নেই।শুধু সালাওয়াত আছে,দরুদ আছে।কারন সূরা আহজাব ৩৩ নং সূরার ৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন।হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ কর এবং তাঁর প্রতি বেশি করে সালাম প্রেরণ কর।
★নামাজে তাশাহুদের আত্তাহিয়্যাতুতে সালাম দিয়ে এবং পড়ে দুইখানা দরুদ পড়ে সালাম ও দরুদ উভয়টির হক আদায় হয়ে যায়।কিন্তু নামাজের বাহিরে সবসময়ের জন্য শুধু এই দরুদ পড়লে সালামের হক আদায় হয় না।তাই এই দরুদ পড়া যাবে না তা বলছি না।কিন্তু নামাজের বাহিরে এমন দরুদ পড়া উচিত যেখানে দরুদ ও সালাম দেয়া উভয়েরই হক আদায় হয়ে যায়।হাদিসের কিতাবে অসংখ্য বাক্য এসেছে দরুদ পড়ার। সেগুলোতে দরুদ ও সালাম উভয়ই আছে৷ আর যদি বিদয়াতিরা বলতে চায় যে, বুখারি শরিফের হাদিসে উল্লেখিত এই দুই দরুদ (তাদের ভাষার দরুদে ইবরাহিমি) ছাড়া নামাজের বাহিরে ভেতরে আর কোন দরুদ পড়া যাবে না,সেসব মূর্খদের জন্য বলব,তাহলে আমরা যে নবিজির নাম মোবারক নেয়ার পর বলি,সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,এই দরুদ ও সালাম কোথা থেকে আসল? আপনারা কি নবিজির ﷺ নাম শুনলে ও বললে আপনাদের ভাষায় সেই দরুদে ইব্রাহিমই পড়েন? নাকি শুধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়েন?
★যে ভাষায় যে শব্দে প্রিয় নবিজির ﷺ শান ও মান মর্যাদা ঠিক রেখে দরুদ ও সালাম আদায় হয় সেই শব্দ বাক্য ভাষা দিয়েই দরুদ ও সালাম পড়া জায়েজ।

✊এ পর্যায়ে কিছু প্রশ্ন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে:
*১. নামাজে যে দরুদ আমরা পড়ি তাকে কি বলে ডাকবো!!!
লক্ষ্য করুনঃ নামাযে যে দরুদ শরীফ আমরা পড়ি তার মধ্যে নবী ইব্রাহীম (আঃ) এঁর নাম নেয়া হয়েছে ৪ বার।হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর নাম নেয়া হয়েছে ৪ বার।

তাহলে কি ভাবে এই দরুদ এর নাম দরদে ইব্রাহিম হয়??
*২. পবিত্র কুরআন বা হাদিসের কোথায় আছে এই দরুদকে,দরুদে ইব্রাহিম বলতে হবে??
⏩ইব্রাহীম (আঃ) এঁর নাম ৪ বার থাকার কারনে যদি দরুদে ইব্রাহিম হয়!!

তাহলে তো একইভাবে ও একই শর্তে দরদে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে হবে।কেননা রাসুলের নামও ৪ বার আছে।তাহলে এই নাম কোথায় থেকে আসলো?? আপনারাই ভাবুন!

অথচ যার উপর দরুদ প্রেরন করা হয় তাহলে তো উচিত ছিল তাঁর নাম অনুযায়ী দরূদের নাম হওয়া অর্থাৎ দরুদে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
✊না হয় তো বলতে হবে নামাজের দরুদ।
না হয় বলতে হবে সালাত ফিত্ তাশাহুদ অর্থাৎ তাশাহুদের দরদ।
*৩. আবার কেউ কেউ বলেন দরুদে ইব্রাহীম পড়লে ১০ বার আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।
⏬এখন পাল্টা প্রশ্ন করলাম-দরুদে ইব্রাহিম পড়লে ১০ বার রহমত বর্ষিত হয়,এই কথা হাদিসের কোথায় আছে? এটার নাম যে দরুদে ইব্রাহিম,সেই কথা হাদিসের কোথায় আছে?
✊তাদের কথা অনুসারে এবার আরেকটি প্রশ্ন করলাম-যদি দরদে ইব্রাহিম ছাড়া আর কোন দরদ নাই থাকে তাহলে “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এটাকে কী বলে??
✊ক্বালা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম/ক্বালানাবিউ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম/……….ইত্যাদি দ্বারাই যখন হাদিস শরিফ শুরু করা হয় তাহলে এটা কী দরুদ শরীফ নয়???
২য় ধাপ
★২. আরেকটি প্রশ্ন হল-আল্লাহ তায়ালার কাছে সকল নবী-রাসূল থেকে অধিক সম্মানিত ও প্রিয় কে??
★সবাই বলবেন তিঁনি হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
তারপরও আপনাদের বুজার সুবিধার্থে কিছু দলিল পেশ করলামঃ

★(ক.) মহান আল্লাহ পাক বলেন
إِذْ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ-
‘আর যখন মহান আল্লাহ সকল নবীর নিকট থেকে শপথ নিলেন এই বলে যে, আঁমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি। অতঃপর যখন আঁমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকটে রাসূল আসবেন যিঁনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করবেন,তখন অবশ্যই তোমরা তার উপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।আল্লাহ বললেন,তোমরা কি স্বীকৃতি দিলে এবং এই কথা মেনে চলার অঙ্গীকার করলে।তারা বললেন, আমরা স্বীকৃত দিলাম।তখন আল্লাহ বললেন,তোমরা সাক্ষী থাক এবং আঁমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম’।
[সূরা আলে ইমরান,আয়াত নং ৮১]
✌এই আয়াত পেশ করার পর ইবনু কাছীর (রহঃ) রাঈসুল মুফাসসিরীন আবদুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ)-এঁর বক্তব্য পেশ করেছেন।তিনি বলেন,
ما بعث الله نبيا من الأنبياء إلا أخذ عليه الميثاق، لئن بَعَث محمدًا وهو حَيّ ليؤمنن به ولينصرنه، وأمَرَه أن يأخذ الميثاق على أمته: لئن بعث محمد صلى الله عليه وسلم وهم أحياء ليؤمِنُنَّ به ولينصرُنَّه-
‘আল্লাহ এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করেননি যার কাছ থেকে এই শপথ গ্রহণ করেননি। তথা প্রত্যেক রাসূলের কাছে তিঁনি এই মর্মে শপথ নিয়েছেন যে,যদি আল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ কে প্রেরণ করেন এবং সেই নবী বা রাসূল জীবিত থাকে, তাহলে তারা যেন মুহাম্মাদ ﷺ-এঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাকে সাহায্য করে। তাদেরকে এও নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন তাদের উম্মতের কাছ থেকে এই বলে শপথ নেয় যে,যদি মুহাম্মাদ ﷺ -কে প্রেরণ করা হয় এবং তারা জীবিত থাকে, তাহলে তারা যেন মুহাম্মাদ ﷺ -এঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাকে সহযোগিতা করে’।
[তাফসীরে ইবনে কাছীর,আলে ইমরান ৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ]
✌এরপর ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,
فالرسول محمد خاتم الأنبياء صلوات الله وسلامه عليه، دائما إلى يوم الدين، وهو الإمام الأعظم الذي لو وجد في أي عصر وجد لكان هو الواجب الطاعة المقدَّم على الأنبياء كلهم؛ ولهذا كان إمامهم ليلة الإسراء لما اجتمعوا ببيت المقدس، وكذلك هو الشفيع في يوم الحشر في إتيان الرب لِفَصْل القضاء، وهو المقام المحمود الذي لا يليق إلا له-
‘আর মুহাম্মাদ ﷺ কিয়ামত পর্যন্ত শেষ নবী। তিঁনিই হচ্ছেন মহান ইমাম যাঁকে কোনও যুগে পাওয়া গেলে সকল নবীর উপর তাঁর আনুগত্য করা জরূরী।আর এজন্যই মি‘রাজের রাত্রে তিঁনি তাদের ইমাম ছিলেন যখন তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে জমা হয়েছিলেন।অনুরূপই তিঁনি হাশরের ময়দানে তাদের জন্য আল্লাহকে বিচার শুরু করার সুফারিশ করবেন। আর এটাই মাকামে মাহমূদ,যা তিঁনি ব্যতীত কারো জন্য শোভা পায় না।
[তাফসীরে ইবনে কাছীর, আলে ইমরান ৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ]
★(খ.) ইবনে আসাকির উদ্ধৃত করেন হযরত সালমান ফারিসী (রা:) থেকে।তিনি বলেন : “হযূর পূর নূর প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) এঁর কাছে জিবরীল আমীন (আ:) এসে পৌঁছে দেন আল্লাহর বাণী: ‘আঁমি যদিও ইব্রাহিম (আঃ) কে খলিল বানিয়েছি,কিন্তু আঁপনাকে বানিয়েছি ‘হাবীব’।আঁমি যদিও মূসা (আঃ) এঁর সাথে দুনিয়াতে কথা বলেছি,আঁপনার সাথে কথা বলেছি আসমানে।আঁমি ঈসা (আঃ) কে রুহুল কুদ্দুস থেকে সৃষ্টি করলেও আঁপনাকে করেছি সমগ্র সৃষ্টিজগতের ২০০০ হাজার বছর পূর্বে।আঁপনার কদম এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আঁপনার পূর্বে কারো কদম পৌঁছেনি, ভবিষ্যতেও পৌঁছবে না।আঁমি আদম (আঃ) কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করলেও আঁপনার মাধ্যমে ঘটিয়েছি নাবুয়্যাত ক্রমধারার পরিসমাপ্তি।(হে রাসূল) আঁপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কাউকেই আঁমি সৃষ্টি করি নি।
ক্বিয়ামাত দিবসে আঁমার আরশের ছায়া আঁপনার উপর প্রসারিত হবে।প্রশংসার জয়মুকুট আঁপনার নূরানী মস্তকে শোভা পাবে।আঁমি আঁপনার নাম আঁমার নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছি।আঁমি বিশ্বজগতও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সৃষ্টি করেছি যাতে তারা জানতে পারে আঁপনার মহান মর্যাদা সম্পর্কে।আঁমি এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করতাম না,যদি আঁপনাকে সৃষ্টি না করতাম’।”
দলিল*
*১. ইবনূ আসাকির: তারীখে দামেস্ক; ৩/৫১৭।
*২. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী: মওদ্বুআতুল কবীর; পৃষ্ঠা ১০১।
*৩. ইমাম যুরকানী: শরহে মাওয়াহিব; ১/১৮২।
*৪. শায়খ ইউসূফ নাবাহানী: যাওয়াহিরুল বিহার; ১/২৮৯।
*৫. ইমাম কাজী আয়াজ: শিফা শরিফ; ২/১০৫।
★(গ.) হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং হযরত ইসমাইল (আঃ) যখন আল্লাহর ঘর তৈরী করতেছিলেন,তখন ইব্রাহীম (আঃ) উক্ত ঘরের নির্মাণ কাজ কবুল করার জন্য নিজের ভবিষ্যৎ সন্তানাদিদের মুসলমান হয়ে থাকার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করার পর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা কিয়াম করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর আবির্ভাব বা শুভ আগমন আরবেও হযরত ইসমাইলের বংশে হওয়ার জন্য এভাবে দোয়া করেছেন।
★★অর্থাৎ হে আঁমার রব! আঁপনি এই আরব ভূমিতে আঁমার ইসমাইলের বংশের মধ্যে তাদের মধ্যে হতেই সেই মহান রাসূলকে প্রেরণ করেন-যিঁনি আয়াত আয়াত সমূহ তাদের কাছে পাঠ করে শুনাবেন,তাদেরকে কোরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্বিক
অপবিত্রতা থেকে তাদের পবিত্র করবেন।
[সূরা আল বাকারা,আয়াত নং ১২৯ ]
এবার দেখুন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ৪০০০ বৎসর পূর্বেই মুনাজাত আকারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর শুভ আবির্ভাব, রাসূলের সারা জিন্দেগীর কর্ম চাঞ্চল্য ও মানুষের আত্নার পরিশুদ্ধির ক্ষমতা বা রাসূলের ওসিলায় নাপাকি হতে মুক্ত হয়ে পরিশুদ্ধি লাভ বর্ননা করে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর বেলাদত শরীফ বা শুভ আগমনের সারাংশ পাঠ করেছেন তথা আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন।
**এই মুনাজাত বা মিলাদে মোস্তাফা ﷺ বা মিলাদুন্নবী (ﷺ) বা বেলাদত শরীফ বা শুভ আগমনের উদযাপন এবং রাসূলের আগমনী বার্তা তিঁনি দাঁড়ানো অবস্থায় করেছেন।ইবনে কাছির তাঁর বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ডে ২৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন “দোয়া ইব্রাহিমু আলাইহি ওয়া সাল্লামু ওয়াহুয়া কায়েমুন” অর্থাৎ উক্ত দোয়া করার সময় ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম দন্ডায়মান ছিলেন।
নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “আনা দুয়াওতু ইব্রাহীমা” আঁমি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর দোয়ার ফসল।যেমন:হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে।
عن العرباض بن سارية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال : ” إني عند الله مكتوب : خاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته وسأخبركم بأول أمري دعوة إبراهيم وبشارة عيسى ورؤيا أمي التي رأت حين وضعتني وقد خرج لها نور أضاء لها منه قصور الشام ” . وراه في ” شرح السنة
“ সাহাবী হযরত ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রাঃ) রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন,তিনি বলেন,আঁমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম (আঃ) কাদা মাটির মাঝে মিশ্রিত ছিল।আর অচিরেই আঁমি তোমাদেরকে আঁমার প্রথম অবস্থা সম্পর্কে খবর দিচ্ছি।আঁমি হলাম ইব্রাহিম (আঃ) এঁর দোয়ার ফসল,ঈসা (আঃ) এঁর সুসংবাদ এবং আঁমার মায়ের ঐ দর্শন যেটা মা দেখেছিলেন যে,তিঁনি আঁমাকে ভূমিষ্ট (পৃথিবীতে আগমনের সময়ে) করেছেন এমতাবস্থায় তার থেকে একটি নূর বের হলো যা তার সামনে সিরিয়ার প্রাসাদ সমূহকে আলোকিতা করেছিল।
[শরহুস সুন্নাহ লিল বাগাভী,মেশকাত- ৫৭৫৯]
✌কথিত নাসিরুদ্দীন আলবানী উক্ত হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।★★

এবার আলোচনা করবো কেন “সালাত ও সালাম” দুটো লাগবে?-১ম অংশ
★৩. মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:
﴿اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلىٰ النَّبِيِّ- يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْ تَسْلِيْمًا﴾ {الاحزاب:٥٦ }
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহতা’লা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবী ﷺ -এঁর মহব্বতে ও সম্মানে দরূদ-সালামের মজলিশ করছেন এবং অব্যাহতভাবে করতে থাকবেন; হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবী (ﷺ)-এঁর সম্মানে ও মহব্বতে আদবের সঙ্গে দরূদ ও সালামের মজলিশ কর।
আবার এভাবেও বলা যেতে পারে “নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর ওপর দরূদ পড়েন,হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর (ﷺ) ওপর দরূদ পড় এবং অতীব সম্মানের সাথে সালাম পেশ কর।”
[সূরা আহযাব,আয়াত নং ৫৬]
লক্ষ্য করুন
✌১ম দৃষ্টিকোন: পবিত্র কোরআনুল কারীমের উপরোক্ত আয়াতটি আরবী ব্যাকরণিক (মুযারি’সিগা) মর্ম অনুযায়ী অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে অর্থবহ করে। আয়াতটি বহুবচনাত্নক এবং দুই ভাগে বিভক্ত।এক ভাগে মহান আল্লাহ তা’লা ও তাঁর ফেরেশতাগণ; অন্যভাগে ঈমানদার মুসলমানগণ।আয়াতটিতে নবী করীমের ﷺ মহব্বত ও সম্মানে দরূদ ও সালামের আদেশ করা হয়েছে।কিন্তু দরূদ ও সালামের এ আদেশটি কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে? তা বলা হয়নি।তবে বিষয়বস্তু বহুবচনাত্নক এবং ঈমানদারদের অর্থাৎ,একাধিক ব্যক্তিকে দরূদ-সালাম অনুশীলনের আদেশ করা হয়েছে।
✌২য় দৃষ্টিকোন: স্বয়ং আল্লাহ পাক তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে রাসূল ﷺ এঁর দরুদ -সালাম পাঠ করেন তথা গুন বর্ননা করেন।আর আল্লাহ তা’আলা খালেক হয়ে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকের উপর দরুদ পড়েন।তা কি আশ্চর্যান্বীত হওয়ার কথা নয়?আল্লাহ কী পরিমান ভালোবাসেন তাঁর প্রিয় মাহবুবকে!! একটিবার ভাবুন।আবার দেখুন! ফেরেশতাদের তো কোন গোনাহ নেই, তারাও তো দরুদ-সালাম পেশ করেন।
আবার আ’মভাবে বা সরাসরি সকল মুসলমানকে না বলে শুধুমাত্র ঈমানদার মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে তোমরা আঁমার হাবীবের উঁপর দরুদ শরীফ ও সালাম পেশ কর পরিপূর্ণ তথা অত্যান্ত আদব সহকারে।বেয়াদবির বিন্দুমাত্র লেশও যেন না থাকে।
✌৩য় দৃষ্টিকোন: পবিত্র কোরআনে নামায,রোজা, হজ্ব,যাকাত ইত্যাদির ব্যপারে ব্যাপক আলোচনার করা হয়েছে,যেখানে তা ফরজ বলে ঘোষনা করা হয়েছে বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে।এখন প্রশ্ন হল সকল ঈবাদত করার পূর্বে বারবার বলা হয়েছে তোমরা ঈমান আননয়ন কর।তাহলে ঐ ঈমান কি পরিপূর্ন হবে,যদি রাসূলকে পরিপূর্ণভাবে না মানা হয়।সমস্ত উম্মত এতে একমত পোষন করবে শুধু মুনাফিক,ইয়াজিদের বন্ধুবর,উবাইয়র ইবনে সলুলের দোষর,মালাউন ছাড়া।
*তাহলে নামায,রোজা ইত্যাদি যেরকম আল্লাহর ঘোষনা হওয়ায় তা ফরজ হয়ে গেল।দরুদ শরীফ কি আল্লাহর ঘোষনা নয়।তবে তফাৎ হল এটা পচন্দ করবে শুধু ঈমানদার। আর যেখানে অন্যান্য বিশেষ ঈবাদত পচন্দ করবে ঢালাওভাবে সবাই।তাই এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই, যেহেতু উক্ত আয়াত আল্লাহ শুধু ঈমানদারদের উদ্দশ্যে নাযিল করেছেন।আর এজন্যই উক্ত আয়াতে কারীমা ঈমাদারগনের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত সরুপ।কেননা এতে ঈমানদার খুশি হবে,মুনাফিক অসন্তুুষ্ট হবে।
 ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) বলেন-অত্র আয়াতের উদ্দেশ্য হলো,আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাহদেরকে তাঁর প্রিয়তম বান্দা ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালায়ে আ’লায় তাঁর নিকট যে মর্যাদা রয়েছে তা জানিয়ে দিয়েছেন।কেননা তিঁনি (রাব্বুল আলামীন) তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদেরও সামনে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুণ বর্ণনা করেন। আর সকল ফেরেশতা নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর উপর দরূদ পড়েন।অতঃপর মহান আল্লাহ তা’আলা জগতবাসীকে তাঁর প্রিয় হাবীবের উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।যাতে উচ্চ জগতবাসী ও নিন্ম জগতবাসীর পক্ষ থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর প্রতি প্রেরিত গুণগান একত্র হয়ে যায়।
[তাফসীরুল কুরআনিল আযী-ম,৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৩২]
⏺লক্ষ্য করুনঃ আজকের আলোচনাতে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও তাফসীর দ্বারা এতটুকু স্পষ্ট যে,শুধু দরুদ শরীফ পড়লে হবে না তার সাথে সালাম পেশ করতে হবে।অর্থাৎ সালাত ও সালাম দুটোই লাগবে।আর এমন দরুদ পড়তে হবে যা হবে পরিপূর্ন দরুদ।আর যদি খালি দরুদ ইব্রাহিম (আপনাদের ভাষায়) তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন পড়েন ভালো কথা তবে তাঁর সঙ্গে কি সালাম পড়েন??
আর সালাত-সালাম দুটো তো আল্লাহর হুকুম।সেখানে জ্বাল-দ্বয়ীফ-মওজু বলা যাবে না!! -সাবধান? সুতরাং যারা আল্লাহর হাবীবের সাথে বিদ্বেষ পোষন করেন সময় থাকতেই সাবধান হোন!!
★তাছাড়া আরও কঠোর সাবধান বানী উক্ত আয়াতে সালাত ও সালামের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে তা হল “”তাসলিমা”” যার মানে হল অত্যান্ত আদব ও মোহাব্বতের সহিত।উল্লেখ্য যে,”ছাল্লু” মানে তোমরা দরুদ পড় তবে কোন দরুদ তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
♦আসলে কি দরুদে ইব্রাহিম ছাড়া আর কোন দরুদ নেই! (নাউজুবিল্লাহ)-২য় পর্ব
কেন “সালাত ও সালাম” দুটো লাগবে?-২য় অংশ
★৫. কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত।
. باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ أَمَرْتَنَا أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ وَأَنْ نُسَلِّمَ عَلَيْكَ فَأَمَّا السَّلَامُ فَقَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ ‏”‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏ – صحيح : ق [1]
তিনি বলেন,একদা আমরা বললাম অথবা লোকজন বললো,হে আল্লাহর রসূল! আঁপনি আমাদেরকে আঁপনার উপর দরুদ ও সালাম পড়ার আদেশ করেছেন। সালাম পাঠের নিয়ম আমরা জানতে পেরেছি।কিন্তু আঁপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা বলো-
‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ’’।
অর্থঃ হে আল্লাহ,আঁপনি মুহাম্মদ (ﷺ), তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষন করুন যেরূপ রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীমের উপর।আঁপনি ইবরাহীমকে যেমন বরকত দান করেছেন তেমনি মুহাম্মাদ (ﷺ)
ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন। নিশ্চই আঁপনি প্রশংসিত ও মহান।
দলিল
*(ক.) তিরমিযী,আবওয়াবুস সালাত,বাবু মা জাআ ফি সিফাতিস সালাতি আলান্নাবী (ﷺ), ২:৫২,নং ৪৮৩।
*(খ.) নাসাঈ,সুনান,কিতাবুস সাহু,৩:৪৭, নং ১২৮৭।
*(গ.) নাসাঈ,সুনানুল কুবরা,১:৩৮৩,নং ১২১।
*(ঘ.) হুমাইদী,মুসনাদ,২:৩১০, নং ৭১১।
*(ঙ.) তাবরানী,মুজামুল কাবীর,১৯:১৩১, নং ২৮৭।
*(চ.) ইউসুফ বিন মুসা,মু’তাছারুল মুখতাছার-১:৫৪।
*(ছ.) সুনান আবূ দাউদ,অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (كتاب الصلاة),হাদিস নম্বরঃ ৯৭৬
*(জ.) বুখারী (অধ্যায়: তাফসীর,সূরাহ আল-আহযাব,অনুঃ আল্লাহর বানী: ইন্নাল্লাহা ওয়া মালায়িকাতাহু য়ুসাল্লুনা ‘আল্লান্নাবী ইয়া আইয়ূ হাল্লাযিনা আমানু সল্লু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লিমূ তাসলিমা, হাদিস ৪৭৯৭)
*(ঝ.) মুসলিম (অধ্যায়: সলাত,অনুঃ তাশাহহুদের পর নাবী (ﷺ)-এঁর উপর দরূদ পাঠ),কিতাবুস সালাত,খন্ড-১/৩০৫, হাদীস-৬৬
*(ঞ.) সুনানে দারেমী,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা ৩০১
*(ট.) সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৯০৪
*(ঠ.) মুসনাদে আহমাদঃ ৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা- ২৪১-২৪৪।
*(ড.) তাফসীরে তাবারীঃ ২২ম খন্ড,পৃষ্ঠা ৩১
*(ঢ.) তাফসীরে কুরতুবী,১৪ম খন্ড,পৃষ্ঠা- ৩৩৪
*(ণ.) তাফসীরে দূররুল মানসূরঃ ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা-২১৫-২১৬
*(ত.) কাঞ্জুল উম্মালঃ ২য় খন্ড,পৃষ্ঠা-১৮০
*(ন.) তাফসীরে ইবনে কাসিরঃ ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০৭।
★৬. অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে।
وَعَنْ أَبي مَسعُودٍ البَدرِي رضي الله عنه، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحنُ في مَجْلِسِ سَعدِ بن عُبَادَةَ رضي الله عنه، فَقَالَ لَهُ بَشْيرُ بْنُ سَعدٍ رضي الله عنه : أَمَرَنَا الله تَعَالَى أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْت عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَالسَّلاَمُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ» . رواه مسلم
আবূ মাসঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমরা সায়াদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম।এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলে।বাশীর ইবনে সা‘আদ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহ আমাদেরকে আঁপনার প্রতি দরূদ পড়তে আদেশ করেছেন,কিন্তু কিভাবে আঁপনার উপর দরূদ পড়ব?’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরুত্তর থাকলেন।পরিশেষে আমরা আশা করলাম, যদি (বাশীর) তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তো ভাল হত)।ক্ষণেক পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা বলো,
‘আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ,কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম।অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’
আর সালাম কেমন,তা তো তোমরা জেনেছ।”
দলিল
*(ক.) মুসলিম-৪০৫
*(খ.) তিরমিযী-৩২২০
*(গ.) নাসায়ী ১২৮৫,১২৮৬
*(ঘ.) আবূ দাউদ ৯৭৯
*(ঙ.) আহমাদ ১৬৬১৯,১৬৬২৪, ২১৮৪৭
*(চ.) মুওয়াত্তা মালিক-৩৯৮
*(ছ.) দারেমী ১৩৪৩
★৭. হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻟَﻴْﻠَﻰ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ :
ﻟَﻘِﻴَﻨِﻲ ﻛَﻌْﺐُ ﺑْﻦُ ﻋُﺠْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻴْﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺃَﻻَ
ﺃُﻫْﺪِﻱ ﻟَﻚَ ﻫَﺪِﻳَّﺔً ﺳَﻤِﻌْﺘُﻬﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨّﺒﻰ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ؟ ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺑَﻠَﻰ ﻓَﺄَﻫْﺪِﻫَﺎ ﻟِﻲ! ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺳَﺄَﻟْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﻛَﻴْﻒَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ
ﻋَﻠَّﻤَﻨَﺎ ﻛَﻴْﻒَ ﻧُﺴَﻠِّﻢُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ؟ ﻗُﻮﻟُﻮْﺍ : ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠَﻰ
ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻛَﻤَﺎ ﺻَﻠَّﻴْﺖَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ
ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺣَﻤِﻴْﺪٌ ﻣَﺠِﻴْﺪٌ , ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ
ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺎﺭَﻛْﺖَ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ
ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺣَﻤِﻴْﺪٌ ﻣَﺠِﻴْﺪٌ . ( ﺻﺤﻴﺢ ، ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ، ﺑﺎﺏ ﻗﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﺗﺨﺬ ﺍﻟﻠﻪ
ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺧﻠﻴﻼ (.
“আব্দুর রহমান ইবনু আবি লায়লা রাহিমাহুল্লাহ বলেন,আমার সাথে কা‘ব ইবনু উজরার সাক্ষাৎ হল,তিনি বললেন: আমি কি সেই হাদিয়াটুকু তোমার কাছে পৌঁছাব না যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি? আমি বললাম,অবশ্যই আঁপনি আমাকে সেই হাদিয়া দেন।তারপর বললেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম,আঁপনি এবং আহলে বাইতের উপর কিভাবে সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আঁপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা বলে দিয়েছেন।তিঁনি বললেন: তোমরা বল:
‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা কারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।
অর্থ: ইয়া আল্লাহ আঁপনি মুহাম্মাদের উপর ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর খাস রহমত বর্ষণ করুন,যেমন আঁপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর পরিবারের উপর খাস রহমাত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আঁপনি প্রশংসিত,উচ্চ মর্যাদাশীল।ইয়া আল্লাহ! আঁপনি মুহাম্মদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করুন,যেমন আঁপনি ইববাহীম (عليه السلام) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযীল করেছেন।নিশ্চয়ই আঁপনি প্রশংসিত উচ্চ মর্যাদাশীল।”
[বুখারী,হাদিস: ৩৩৭০,সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ দু’আ (كتاب الدعوات), হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৭]
★৮. হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
وَعَنْ فَضَالَةَ بنِ عُبَيْدٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ الله تَعَالَى، وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبيِّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «عَجِلَ هَذَا» ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ – أَوْ لِغَيْرِهِ -: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ سُبْحَانَهُ، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ» . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
ফাযালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোককে নামাযে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর উপর দরূদও পড়েনি।এ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “লোকটি তাড়াহুড়ো করল।” অতঃপর তিনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, “যখন কেউ দো‘আ করবে,তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা বর্ণনা যোগে ও আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে দো‘আ আরম্ভ করে, তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)
দলিল
*(ক.) আবূ দাউদ ১৪৮১
*(খ.) তিরমিযী ৩৪৭৬,৩৪৭৭
*(গ.) নাসায়ী ১২৮৪
*(ঘ.) আহমাদ ২৩৪১৯
★৯. হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
عَنْ أَبِى طَلْحَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ أنَّه قال قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم ,جَاء ذَاتَ يَوْمٍ وَالْبُشْرَى فِي وَجْهِهِ فَقُلْنَا إِنَّا لَنَرَى البُشْرَى فِى وَجْهِكَ فَقَالَ : إِنَّهُ أَتَانِى الْمَلَكُ جِبْرِيْلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُوْلُ أَمَا يُرَضِيْكَ صلي الله عليه وسلم أَنَّهُ لاَيُصَلِّي عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلاَّ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا, وَلاَ يُسَلِّمْ عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلاَّ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا . (حسن ، رواه النسائي ، صحيح سنن النسائى للألبانى الجزء الأول (
“আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করলেন।তখন তাঁর চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল ছিল।আমরা বললাম,আমরা আঁপনার চেহারাতে আনন্দের নিদর্শন দেখছি।তখন তিঁনি বললেন,আঁমার কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে এ কথার সুসংবাদ দিয়েছেন যে,আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,আঁপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন,যে ব্যক্তি আঁপনার উপর দরূদ পড়বে আমি তার উপর দশবার দরূদ পাঠ করব।আর যে ব্যক্তি আঁপনাকে একবার সালাম করবে আঁমি তার উপর দশটি শান্তি বর্ষণ করব।
[নাসায়ী,হাদিস: ১২১৬ (হাসান)]
★১০. অপর বর্ননাতেও এসেছে।
عَنْ عَبْدِالرَّحْمَنِ بْنِ عَوفٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: خَرَجَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم حَتّي دَخَلَ نَخْلاً فَسَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُوْدَ حَتَّى خَشِيْتُ أَنْ يَكُوْنَ اللهُ قَدْ تَوَفَّاهُ ، قَالَ: فَجِئْتُ أَنْظُرُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : مَالَكَ؟ فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ. قَالَ: فَقَالَ: إِنَّ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ لِى: أَلاَ أُبَشِّرُكَ أَنَّ اللهَ عَزَّوَجَلَّ يَقُوْلُ لَكَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلاَةً صَلَّيْتُ عَلَيْهِ وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْه. (صحيح ، رواه أحمد ، فضل الصلاة على النبى للألبانى (
“আব্দুর রহমান ইবন ‘আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে এক খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন।অতঃপর দীর্ঘক্ষণ সেজদা করলেন।এমন কি আমাদের ভয় হল তাঁর কোনো ওফাত (শরীফ) হয়ে গেল নাকি।আমি তাঁকে দেখতে আসলাম তখন তিঁনি মাথা উঠালেন এবং বললেন: তোমার কি হল? আমি তাঁকে আমাদের ভয়ের কথা ব্যক্ত করলাম।তারপর তিঁনি বললেন: জিবরীল আলাইহিস সালাম আঁমাকে বললেন: আঁমি কি আঁপনাকে এই সু-সংবাদ দেব না যে,আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: “যে ব্যক্তি আঁপনার উপর দরূপ পাঠ করবে,আঁমি তার উপর দরূদ পাঠ করব।আর যে ব্যক্তি আঁপনাকে সালাম করবে আঁমি তার উপর শান্তি নাযিল করব”।
[আহমদ,হাদিস: ৭ (সহীহ)]
★১১. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে খোদা (ﷺ) ইরশাদ করেন: জিব্রাইল (আ:) আঁমাকে আরজ করলেন যে,আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “হে মুহাম্মদ! আঁপনি কি এ কথার উপর সন্তুষ্ট নন যে,আঁপনার উম্মত আঁপনার উপর এক বার সালাম প্রেরণ করবে,আর আঁমি তার উপর দশ বার সালাম প্রেরণ তথা শান্তি বর্ষণ করব?”
[নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা,হাদিস-১২৯২]
★১২. হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক (রা:) বলেন:“নবী করীম,রাউফুর রাহীম (ﷺ) এঁর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা গুনাহ সমূহকে এত দ্রুত মিটিয়ে দেয় যে,পানিও আগুণকে তত দ্রুত নিভাতে পারে না,আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এঁর উপর সালাম প্রেরণ করা গর্দান সমূহ (অর্থাৎ- গোলামদেরকে) আযাদ করার চেয়েও উত্তম।”
[তারিখে বাগদাদ,৭ম খন্ড,১৭২ পৃষ্ঠা]
★১৩. সালাতের শেষেও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাম পৌঁছানো সুন্নাত।
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ إِذَا سَلَّمَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ: سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ ، وَسَلاَمٌ عَلَي الْمُرْسَلِيْنَ ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ. (حسن ، رواه أبويعلي ، عدة الحصن الحصين( ،
“আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার বলতেন: সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াছিফুন,ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন,ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! লোকেরা যা বলে তা থেকে তুমি পবিত্র এবং মর্যাদা পূর্ণ,সকল নবীদের উপর সালাম ও শান্তি হোক,আর সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।
[আবু ইয়া‘লা, হাদিস: ২১৩ (হাসান)]
✊লক্ষ্য করুনঃ উপরোক্ত হাদিসগুলোতে স্পষ্টভাবে সালাত ও সালাম দুটোর কথা বলা হয়েছে।যেখানে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়েছে সেখানে কিভাবে সালাতের জন্য খাছ দরূদ কিভাবে সালাতের বাহিরে পাঠ করা হয়? কেননা তাশাহুদের পর যে দরুদ আমরা পাঠ করি সেটাতে সালাত আছে কিন্তু সালাম নেই।আর যদি পড়তেই হয় তাহলে নবীজিকে সালাতের পাশাপাশি অবশ্যই সালাম দিতে হবে নতুবা তা দরুদ হবে না।কেননা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা হল সালাতে তা’আম্মা বা পরিপূর্ণ দরুদ শরীফ তথা সালাত ও সালাম দুটো একসাথেই লাগবে।

কবর পাকা বিষয় নিয়ে সুন্দর কথা বললেন হুজুর মুফতী আমিনুল ইসলাম ওয়ালী