করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনা

করোনাভাইরাস
আল্লামা আবু বকর সিদ্দিক
(অধ্যক্ষ আড়াইসিধা কামিল মাদরাসা, বি-বাড়ীয়া।
সাহেবের এলাকা বাসি,আড়াইসিধা ও বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি করোনা ভাইরাস বিষয়ে আহবান………..
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুললাহি ওয়া বারকাতু।
দ:শশীদল,শশীদল ইউনিয়ন, আড়াইসিধা সহ বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি ও সারা পৃথিবীর জন্য কিছু বলা….
আমরা অনেক পাপ করেছি আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন।আমিন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের একটি মহান পরীক্ষা নিচ্ছেন, ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্য চান যেন প্রিয় নবী সাঃ এর ওসিলায় আমাদেরকে মাফ করে দেয় আমিন।
1.সরকারের সকল নির্দেশ ফলো করেন এবং করান।
2.এলাকার মানুষকে সচেতনতা তৈরি করেন এবং আপনিও হোন।
৩.মসজিদে নামাজ না পরে বাড়িতে পড়ুন।
৪.সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ রইল।
৫.সবাই কোরআন তেলওয়াত করুন,পারলে অর্থ সহ পড়ুন।
৬.একা একা আল্লাহর সাহায্য চান।
৭.মিলাদ শরীফ ও দোয়া করুন যেনো রমজান এর আগেই সব ঠিক হয়ে যায়।
৮.তাওবা করুন ও দুরুদ শরীফ বেশী বেশী পাঠ করুন।
৯.প্রিয় রাসুল সাঃ এর ওসিলায় আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মাফ করে দিক আমিন।
পরিশেষে সবাইকে সালাম জানিয়ে সবাই ভাল থাকুন দঃশশীদল, শশীদল ইউনিয়ন এবং সারা পৃথিবীর জন্য দোয়া করছি,আমাদের দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করুক আমিন।
নিচে কিছু পাপ বিষয়ে আলোচনা করা হল।
—-পাপের সংজ্ঞা——–
শরীয়তের পরিভাষায় মাসিয়াত বা পাপ হল, আল্লাহ তাআলা যা করা বান্দার জন্য আবশ্যক করেছেন, তা পালনে বিরত থাকা, এবং যা হারাম করেছেন, তা পালন না করা। শরীয়তের পরিভাষা ব্যবহারে পাপকে বুঝানোর জন্য বিভিন্ন শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন- যান্‌ব, খাতীআ’, ইসম, সাইয়্যিআ’- ইত্যাদি।
এর চুড়ান্ত বিপজ্জনক দিক হল, তা মানুষকে দূরে নিক্ষেপ করে আল্লাহ ও তার রহমত হতে, টেনে নেয় আল্লাহর ক্রোধ ও জাহান্নামের ভয়ানক পরিণতির দিকে। পাপের ক্রম ও ধারাবাহিকতা মানুষকে মাওলার সান্নিধ্য হতে ক্রমে দূরে নিক্ষেপ করে।
এ কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে পূণ: পূণ: এ সম্পর্কে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন, পাপ থেকে দূরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন ও পাপের কারণে অতীত জাতিগুলোর উপর যে-সকল আযাব-গজব ও নিরন্তর দুর্যোগ নেমে এসেছিল- তার বিবরণ তুলে ধরেছেন সবিস্তারে। সাবধান হতে বলেছেন এগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
ইরশাদ হয়েছে :আল-মা’ইদাহ 5:49
َۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَٱعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلنَّاسِ لَفَٰسِقُونَ
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ তো কেবল তাদেরকে তাদের কিছু পাপের কারণেই আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক।
আল-আ‘রাফ 7:100
أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلْأَرْضَ مِنۢ بَعْدِ أَهْلِهَآ أَن لَّوْ نَشَآءُ أَصَبْنَٰهُم بِذُنُوبِهِمْۚ وَنَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
যমীনের অধিবাসীদের (চলে যাবার) পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এ কথা পরিষ্কার হয়নি যে, আমি যদি চাই, তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? আর আমি মোহর মেরে দেই তাদের হৃদয়ে। অতঃপর তারা শোনে না।
অনুরূপভাবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন অসংখ্য হাদীসে। উদাহরণত: তিনি বলেছেন :
٥٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ” قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: ” الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ» “. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক পাপ থেকে দূরে থাকবে …’ (বুখারী -২৫৬০)
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসে ‘ইজতিনাব’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শব্দটি খুবই ইঙ্গিতবহ, কারণ, ‘ইজতিনাব’-এর মর্মার্থ হল, পাপ ও পাপের প্রতি মানুষের মনকে লালায়িত র্কতেএমন যে কোন কিছুকে সযত্নে এড়িয়ে চলা, কেবল পাপ বর্জনের মাধ্যমে রাসূলের উক্ত বাণীর সার্থক প্রতিফলন হবে না।
পাপের প্রকারভেদ :পাপ দু’ভাগে বিভক্ত-
(১) কবীরা মারাত্মক পাপ।(২) ছগীরা বা লঘুপাপ।
পাপ দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোরআন-হাদীসের দলীল ও প্রমাণাদি অসংখ্য, নিম্নে তার কয়েকটি উদ্ধৃত করা হল:
(ক) আল-কুরআনে এসেছে :আন নিসা 4:31
إِن تَجْتَنِبُوا۟ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
তোমরা যদি সেসব কবীরা গুনাহ পরিহার কর, যা থেকে তোমাদের বারণ করা হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাব সম্মানজনক প্রবেশস্থলে।
(খ) ভিন্ন এক স্থানে কোরআনের বর্ণনা :আন-নাজ্‌ম 53:32
ٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَۚ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلْمَغْفِرَةِۚ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِى بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْۖ فَلَا تُزَكُّوٓا۟ أَنفُسَكُمْۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ
যারা ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।
‘যারা বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হতে, ছোট পাপের সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও।’ [সূরা নাজম : ৩২]
(গ) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
[كِتَابُ الصَّلَاةِ]الْفَصْلُ الْأَوَّلُ
٥٦٤ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ ; مُكَفِّرَاتٌ لَمَّا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ» “. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও এক জুমা’ হতে অপর জুমা’ হল এসবের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।’ (তিরমিযী : ১৯৮)
٢٢١ – وَعَنْ سَخْبَرَةَ الْأَزْدِيِّ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – ( «مِنْ طَلَبَ الْعِلْمَ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى» ) . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، وَالدَّارِمِيُّ.
٢٨٦ – وَعَنْ عُثْمَانَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – ( «مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا، إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ» ) رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
٦٠٣ – وَعَنْ أَنَسٍ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ نَسِيَ صَلَاةً، أَوْ نَامَ عَنْهَا، فَكَفَّارَتُهُ أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا» . وَفِي رِوَايَةٍ: لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
কবীরা ও ছগীরা গোনাহের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
প্রথমত : কবীরা গুনাহ
٤٩ – عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: «قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ؟ قَالَ: ” أَنْ تَدْعُوَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ ” قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ” أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ “. قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ” أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ “. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَهَا: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ} [الفرقان: ٦٨] » مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
٥٠ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” «الْكَبَائِرُ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَالْيَمِينُ الْغَمُوسُ» “. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.
٥٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ” قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: ” الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ» “. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
কিছু কিছু পাপকে কোরাআন ও হাদীসের স্পষ্ট প্রমাণের আলোকে কবীরা গুনাহ হিসেবে শনাক্ত করা যায়, যেমন, আল্লাহর সাথে অংশিদারিত্ব সাব্যস্ত করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, অন্যায় হত্যা, যাদু, মিথ্যা সাক্ষ্য্তইত্যাদি।
আর যে সব গুনাহ সম্পর্কে কবীরা হিসেবে স্পষ্ট ঘোষণা কুরআন বা হাদীসে আসেনি এরূপ পাপসমূহের কোনটি কবীরা তা নির্ণয় ও শনাক্তির জন্য আইনজ্ঞ উলামাগণ একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা নিরূপনে ইসলামী আইন বিশারদদের মতামত এই যে, যে পাপ কোরআন ও হাদীসের দলীল দ্বারা কঠোরভাবে হারাম হওয়া প্রমাণিত, যার ব্যাপারে লা’নত ও গজবের ঘোষণা এসেছে, কিংবা জাহান্নামের হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে, অথবা দুনিয়াতে শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছ্তেতাকে ইসলামের পরিভাষায় কবীরা গুনাহ বলা হয়।
দ্বিতীয়ত : ছগীরা গুনাহ
কবীরা গুনাহের উক্ত সংজ্ঞা যে পাপের উপর আরোপ করা যায় না, তাকেই ইসলামের পরিভাষায় ছগীরা গুনাহ বলা হয়। যেমন : আজান হওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হওয়া, দাওয়াত পাওয়ার পর তাতে কোন কারণ ব্যতীত অংশ গ্রহণ না করা, সালামের উত্তর না দেয়া, হাঁচি দিয়ে যে আল্‌হামদুল্লিাহ বলল তার উত্তর না দেয়া ইত্যাদি।
ছগীরা গুনাহকে লঘু মনে করার ব্যাপারে সাবধানতা :
ছগীরা গুনাহকে লঘু মনে করা কোন ক্রমেই উচিত নয়। কেননা, এতে কবীরাহ গুনাহে আক্রান্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
ছগীরা গুনাহকে লঘুভাবে নেয়ার ভয়ানক পরিণতি কি হতে পারে, তা এখানে আলোচনা করছি:্ত
(ক) মুসলমানের কর্তব্য, যা কিছু হতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা। কোন্‌টা ছোট আর কোন্‌টা বড়্ততা বিবেচ্য নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
ما نهيتكم عنه فاجتنبوه. )رواه مسلم-৪৩৪
‘যা থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করেছি, তা পরিহার কর।’ (মুসলিম : ৪৩৪৮)
(খ) মানুষের কর্তব্য, আল্লাহ তা’আলার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে গুনাহ পরিহার করে চলা। কেননা, যা কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পরিহার করতে বলেছেন, তা পরিহার না করার অর্থ আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন, অসম্মান দেখানো। সন্দেহ নেই এটা খুবই আপত্তিকর ও গর্হিত কাজ।
তাই, এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত তাবেয়ী বেলাল ইবনে সা’দ রা.-এর উক্তি এরূপ তুমি ছোট অপরাধ করলে, না বড় অপরাধ্ততা ধর্তব্য নয়। মূল দেখার বিষয় তুমি কার কথার অবাধ্য হচ্ছো।
(গ) ছোট গুনাহ থেকে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়ে বলেছেন :
، وَرَوَاهُ أَحْمَدُ، والطَّبَرَانِيُّ، والْبَيْهَقِيُّ، وَالضِّيَاءُ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ مَرْفُوعًا، وَلَفْظُهُ: ” «إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ، فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بَطْنَ وَادٍ، فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ حَتَّى حَمَلُوا مَا أَنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ، وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَنْ يُؤْخَذُ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكُهُ» “، وَرَوَاهُ أَحْمَدُ والطَّبَرَانِيُّ أَيْضًا عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ نَحْوَهُ. )رواه أحمد :২১৭৪২وصححه الألباني في الجامع(
‘তোমরা ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধানতা অবলম্বন করবে। ছোট গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ার দৃষ্টান্ত সেই পর্যটক দলের মত, যারা একটি উপত্যকায় বিশ্রাম নিতে বসল। অতঃপর তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি একটি লাকড়ি নিয়ে উপস্থিত হল, অপর ব্যক্তি আরেকটি; পরিণতিতে তাদের রুটি প্রস্তুত হয়ে গেল। এবং ছোট গুনাহের কারণে যদি কাউকে পাকড়াও করা হয়, তবে, সন্দেহ নেই, তা তার ধ্বংসের কারণ হবে।’ [আহমদ-২১৭৪২]
٥٣٥٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا – أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَ: ” «يَا عَائِشَةَ! إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ، فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا» ” رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ، وَالدَّارِمِيُّ، والْبَيْهَقِيُّ فِي (شُعَبِ الْإِيمَان
(ঘ) ছগীরা গোনাহে মানুষের অভ্যস্ততার ফলে মানুষ ক্রমে অন্যান্য ছগীরা এবং এক সময়ে কবীরা গুনাহে প্রতি লিপ্ত হয়ে পড়ে। ছগীরা গুনাহকে হাল্কা মনে করে তাতে লিপ্ত হওয়া শয়তানের কুমন্ত্রণা বৈ নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ২১
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ فَإِنَّهُۥ يَأْمُرُ بِٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ مَا زَكَىٰ مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يُزَكِّى مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাবি‘উ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাবি’ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ফাইন্নাহূইয়া’মরু বিল ফাহশাই ওয়াল মুনকারি ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুহূমা-ঝাকা-মিনকুম মিন আহাদিন আবাদাওঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইউঝাক্কী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।
যে সব কারণে ছগীরা গুনাহ কবীরা গুনাহে পরিণত হয় :
(১) বার বার ছগীরা গুনাহে লিপ্ত হলে অথবা ছগীরা গুনাহ অভ্যাসে পরিণত হলে তা আর ছগীরা গুনাহে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবীরা গুনাহে পরিণত হয়।
প্রখ্যাত সাহাবী ইবনে আব্বাস রা. বলেন : ‘ইস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে কবীরা গুনাহ থাকে না। তবে বার বার ছগীরা গুনাহ করে গেলে তা আর ছগীরা গুনাহ থাকে না।’
(২) প্রকাশ্যে ছগীরা গুনাহ করলে অথবা তা করে আনন্দিত হলে বা তা নিয়ে গর্ব করলে কবীরা গুনাহে পরিণত হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
٤٨٣١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” «كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا الْمُجَاهِرُونَ، وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ عَمَلًا بِاللَّيْلِ ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ فَيَقُولَ يَا فُلَانُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ» “. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ: ” مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ ” فِي بَابِ الضِّيَافَةِ.
. (رواه البخاري: ৫৬০৮)
‘আমার উম্মতের সকল সদস্য ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে, কেবল যারা প্রকাশ্যে পাপ করে যায়, তারা ব্যতীত। প্রকাশ্যে পাপ করার অর্থ : কোন ব্যক্তি রাতে খারাপ কাজ করল। আল্লাহ্‌ তার এ কাজটি গোপন রাখলেন কিন্তু দিনের বেলায় সে লোকদের বলে বেড়াল, হে শুনেছ ! আমি গত রাতে এই এই করেছি। রাতে তার প্রতিপালক যা গোপন করলেন, দিনে সে তা প্রকাশ করে দিল।’
(৩) যিনি ছগীরা গুনাহ করলেন, তিনি যদি মানুষের জন্য অনুসরণযোগ্য হয়ে থাকেন, তাহলে মানুষ তার কারণে এ গুনাহকে গুনাহ মনে করবে না। মনে করবে, তার মত মানুষ যখন এ কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা করলে দোষ কি ? ফলে তাদের এ গুনাহের অংশ তারও বহন করতে হতে পারে।
পাপের নেতিবাচক প্রভাব :
ব্যক্তি ও সমাজের উপর পাপ ও পাপাচারের নেতিবাচক নানাবিধ প্রভাব রয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে ব্যক্তি বা সমাজকে পাপের খেলায় মত্ত করে তোলে, ধ্বংসের বীজ ছড়িয়ে দেয় সর্বত্র। নিম্নে তারই কয়েকটি তুলে ধরা হল।
(ক) ব্যক্তির উপর পাপের ক্ষতিকর প্রভাব :
পাপের কারণে ব্যক্তির অন্তরাত্মা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, তার আত্মা ঢেকে যায় অন্ধকারাচ্ছন্নতার চাদরে। মনকে সঙ্কুচিত মনে হয় সর্বদা। নানা প্রকার বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ভাল কাজের শক্তি-সামর্থ্য ও তাওফীক হ্রাস পায়।
প্রশ্ন হতে পাের্ত যারা পাপাচারে লিপ্ত তারাইতো গড়ে তুলছে প্রাচুর্য্য। যাপন করছে স্বাচ্ছ্যন্দ জীবন ! নেয়ামত ও আনন্দের আবহ ঘিরে সর্বদা তাদের। কথা অসত্য নয়। তবে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ধৃত-পাকড়াও করার কৌশল মাত্র। পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে এ প্রসঙ্গে বক্তব্য এসেছে।
সূরা আল-কলম (القلم), আয়াত: ৪৫
وَأُمْلِى لَهُمْ إِنَّ كَيْدِى مَتِينٌ
উচ্চারণঃ ওয়া উমলী লাহুম ইন্না কাইদী মাতীন।
অর্থঃ আমি তাদেরকে সময় দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত।
সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৭৮
وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ خَيْرٌ لِّأَنفُسِهِمْ إِنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
উচ্চারণঃ ওয়ালা-ইয়াহছাবান্নাল্লাযীনা কাফারূআন্নামা-নুমলী লাহুম খাইরুল লিআনফুছিহম ইন্নামা-নুমলী লাহুম লিইয়াঝদা-দূ ইছমাওঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।
অর্থঃ কাফেররা যেন মনে না করে যে আমি যে, অবকাশ দান করি, তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। আমি তো তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে করে তারা পাপে উন্নতি লাভ করতে পারে। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাজনক শাস্তি।
সূরা হুদ (هود), আয়াত: ১০২
وَكَذَٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَآ أَخَذَ ٱلْقُرَىٰ وَهِىَ ظَٰلِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُۥٓ أَلِيمٌ شَدِيدٌ
উচ্চারণঃ ওয়া কাযা-লিকা আখযুরাব্বিক ইযাআখাযাল কুরা-ওয়াহিয়া জা-লিমাতুন ইন্না আখযাহূআলীমুন শাদীদ।
অর্থঃ আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।
(খ) সমাজে পাপের ক্ষতিকর প্রভাব :
সমাজে পাপাচার ও তার ক্ষতিকর প্রভাব বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পাপাচারের কারণে বিভিন্ন রোগ-ব্যধির বিস্তার ঘটে, দুষিত হয় পরিবেশ। দেখা দেয় নিরাপত্তার অভাব, বিঘ্ন ঘটে শান্তি-শৃংখলার, ভীতি ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহভাবে। কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্প, ঝড়-তুফানসহ দেখা দেয় নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মানববিধ্বংসী যুদ্ধ, আগ্রাসন্তইত্যাদি বিবিধ অস্বাভাবিকতা মানুষের পাপাচারেরই ফসল।
তবে কাফিরদের অবাধ বিচরণ ও স্বচ্ছলতা দেখে মুসলিমদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ, হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাময়িক অবকাশ, কিংবা হয়ত আল্লাহ তা’আলা পরোকালের তুলনায় দুনিয়াতেই তাদের জন্য বরাদ্দ সকল সুখ-শান্তি বিলিয়ে দিচ্ছেন,্তরাসূল হতে বর্ণিত হাদীসেও এর স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়।
পাপাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজের করণীয়
প্রথমত : সামাজিক দায়িত্ববোধ বিস্তার
সমাজের দায়িত্ব হল সকল প্রকার পাপাচার ও অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া। উপদেশ ও নসীহতের মাধ্যমে পাপাচার নির্মূল করা।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখার কর্মপন্থা গ্রহণ করা। একে ব্যাপারে অলসতা ও গাফিলতি প্রদর্শন প্রকারান্তরে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনবে, সন্দেহ নেই। পাপ নির্মূলের চেষ্টা না করে যদি পাপের সাথে সহাবস্থানের মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে তবে শাস্তি নাযিল হওয়া অবধারিত।
ইরশাদ হয়েছে :সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৭৮
لُعِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبْنِ مَرْيَمَ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا۟ وَّكَانُوا۟ يَعْتَدُونَ
উচ্চারণঃ লু‘ইনাল্লাযীনা কাফারূ মিম বানীইছরাঈূলা ‘আলা-লিছা-নি দা-ঊদা ওয়া ‘ঈছাবনি মারইয়ামা যা-লিকা বিমা-‘আসাওঁ ওয়া কা-নূইয়া‘তাদূ ন।
অর্থঃ বনী-ইসলাঈলের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে দাউদ ও মরিয়মতনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা একারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমা লংঘন করত।
সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৭৯
كَانُوا۟ لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ
উচ্চারণঃ কা-নূলা-ইয়াতানাহাওনা ‘আম মুনকারিন ফা‘আলূহু লাবি’ছা মা-কা-নূইয়াফ‘আলূন।
অর্থঃ তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল।
(খ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “مَثَلُ الْمُدْهِنِ فِىْ حُدُودِ اللهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا مَثَلُ قَوْمٍ اِسْتَهَمُوْا سَفِيْنَةً فَصَارَ بَعْضُهُمْ فِىْ أَسْفَلِهَا وَصَارَ بَعْضُهُمْ فِىْ أَعْلَاهَا فَكَانَ الَّذِىْ فِىْ أَسْفَلِهَا يَمُرُّ بِالْمَاءِ عَلَى الَّذِينَ فِىْ أَعْلَاهَا فَتَأَذَّوْا بِه فَأَخَذَ فَأْسًا فَجَعَلَ يَنْقُرُ أَسْفَلَ السَّفِينَةِ فَأَتَوْهُ فَقَالُوا: مَالَكَ؟ قَالَ: تَأَذَّيْتُمْ بِىْ وَلَا بُدَّ لِىْ مِنَ الْمَاءِ. فَإِنْ أَخَذُوا عَلٰى يَدَيْهِ أَنْجَوْهُ وَنَجَّوْا أَنْفُسَهُمْ وَإِنْ تَرَكُوهُ أَهْلَكُوهُ وَأَهْلَكُوا أَنْفُسَهُمْ”. رَوَاهُ البُخَارِىُّ
৫১৩৮-[২] নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের বিষয়ে অলসতা করাকে ঐ সম্প্রদায়ের সাথে তুলনা করা যায়, যারা নৌকায় স্থান পাওয়ার জন্য লটারি করেছে এবং লটারি অনুসারে তাদের কেউ নৌকার নিচে এবং কেউ উপরে বসেছে। নৌকার নিচের লোকেরা উপরের লোকেদের পাশ দিয়ে পানির জন্য গমনাগমন করত, ফলে উপরের লোকেদের কষ্ট হত। একদিন নিচের লোকেদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি কুঠার হাতে নিয়ে নৌকার তলায় কাঠ কোপাতে আরম্ভ করল। তখন উপরের লোকেরা তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, সর্বনাশ! তুমি কি করছ? লোকটি বলল, তোমরা আমাদের কারণে কষ্ট পাচ্ছ। আর আমাদেরও পানি একান্ত প্রয়োজন। এমতাবস্থায় যদি তারা তার হস্তদ্বয় ধরে ফেলে, তাহলে তাকেও রক্ষা করবে, নিজেরাও রক্ষা পাবে। আর যদি তাকে তার কাজের উপরই ছেড়ে দেয়, তাহলে তাকেও ধ্বংস করবে, নিজেদেরকেও ধ্বংস করবে।
[1] সহীহ : বুখারী ২৬৮৬, তিরমিযী ২১৭৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৬৯, সহীহ আত্ তারগীব ২৩০৯, আহমাদ ১৮৩৭০, আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৯৩৪।
وَعَنْ أَبِىْ بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَؤُوْنَ هٰذِهِ الْآيَةَ: ﴿يٰاَيُّها الَّذِينَ اٰمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ﴾ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا مُنْكَرًا فَلَمْ يُغَيِّرُوهُ يُوشِكُ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللهُ بِعِقَابِه. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِىُّ وَصَحَّحَهٗ. وَفِىْ رِوَايَةِ أَبِىْ دَاوٗدَ:إِذَا رَأَوْا الظَّالِم فَلَمْ يَأْخُذُوْا عَلٰى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللهُ بِعِقَابٍ. وَفِىْ أُخْرٰى لَهٗ:مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِىْ ثُمَّ يَقْدِرُونَ عَلٰى أَنْ يُغَيِّرُوا ثُمَّ لَا يُغَيِّرُونَ إِلَّا يُوشِكُ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللهُ بِعِقَابٍ. وَفِىْ أُخْرٰى لَهٗ:مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِىْ هُمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يَّعْمَلُهٗ
৫১৪২-[৬] আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি সমবেত লোকেদের উদ্দেশে বলেন, হে জনগণ! তোমরা নিশ্চয় এ আয়াতটি পাঠ করেছ, (অর্থাৎ-) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ওপর এ কথা আবশ্যিক করে নাও, যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা হিদায়াতের উপর স্থির থাকবে’’। এ সম্পর্কে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মানুষ যখন কোন খারাপ কাজ হতে দেখে, সেটাকে পরিবর্তন করে না, অনতিবিলম্বেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর তাঁর ‘আযাব নাযিল করবেন। [ইবনু মাজাহ ও তিরমিযী;[1] আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি সহীহ বলে বর্ণনা করেছেন।]
আর আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এক বর্ণনায় আছে যে, মানুষ যখন কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার হাত ধরে না ফেলে, অনতিবিলম্বেই আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। ইমাম আবূ দাঊদ-এর অপর এক বর্ণনায় আছে যে, যে জাতির মধ্যে পাপাচার হয়, আর সে জাতির পরিবর্তন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটার পরিবর্তন না করে, তাহলে অনতিবিলম্বে আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। তাঁর অপর এক বর্ণনায় আছে যে, যে জাতি পাপাচারে লিপ্ত হয়, আর পাপে লিপ্তদের তুলনায় সাধারণ লোক সংখ্যায় বেশি হয়।
[1] সহীহ : ইবনু মাজাহ ৪০০৫, তিরমিযী ২১৬৮, আবূ দাঊদ ৪৩৩৮, সহীহুল জামি‘ ১৯৭৪, আহমাদ ৩০, আবূ ইয়া‘লা ১৩১, অন্য রিওয়ায়তে আবূ দাঊদ ৪৩৩৭।
وَعَن جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:مَا مِنْرَجُلٍ يَكُونُ فِىْ قَوْمٍ يَعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِىْ يَقْدِرُوْنَ عَلٰى أَنْ يُّغَيِّروْا عَلَيْهِ وَلَا يُغَيِّرُوْنَ إِلَّا أَصَابَهُمُ اللهُ مِنْهُ بِعِقَابٍ قَبْلَ أَنْ يَّمُوْتُوْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَابْنُ مَاجَهْ
৫১৪৩-[৭] জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে জাতিতে কোন লোক পাপে লিপ্ত থাকে, আর ঐ ব্যক্তিকে পাপ থেকে ফেরাতে জাতির লোকেদের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও না ফেরায়, তাহলে তাদের মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করবেন। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]
[1] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৩৩৯, ইবনু মাজাহ ৪০০৯, সহীহ আত্ তারগীব ২৩১৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৬৮৬।
وَعَنْ أَبِىْ الْبَخْتَرِىِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:لَنْ يَّهْلِكَ النَّاسُ حَتّٰى يَعْذِرُوْا فِىْ أَنْفُسِهِمْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
৫১৪৬-[১০] আবুল বাখতারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে একজনের থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ ধ্বংস হবে না তার মধ্যে পাপের পরিমাণ বেশি না হওয়া পর্যন্ত। (আবূ দাঊদ)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৩৪৭, সহীহুল জামি‘ ৫২৩১, আহমাদ ১৮২৮৯।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:إِنَّهٗ تُصِيبُ أُمَّتِىْ فِىْ آخِرِ الزَّمَانِ مِنْ سُلْطَانِهِمْ شَدَائِدُ لَا يَنْجُو مِنْهُ إِلَّا رَجُلٌ عَرَفَ دِينَ اللهِ فَجَاهَدَ عَلَيْهِ بِلِسَانِه وَيَدِه وَقَلْبِه فَذٰلِكَ الَّذِىْ سَبَقَتْ لَهُ السَّوَابِقُ وَرَجُلٌ عَرَفَ دِينَ اللهِ فَصَدَّقَ بِه وَرَجُلٌ عَرَفَ دِينَ اللهِ فَسَكَتَ عَلَيْهِ فَإِنْ رَأَى مَنْ يَّعْمَلُ الْخَيْرَ أَحَبَّهٗ عَلَيْهِ وَإِنْ رَأَى مَنْ يَّعْمَلُ بِبَاطِلٍ أَبْغَضَهٗ عَلَيْهِ فَذٰلِكَ يَنْجُوْ عَلٰى إبْطَانِه كُلِّه
৫১৫১-[১৫] ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যামানায় আমার উম্মাতের ওপর তাদের শাসকদের পক্ষ থেকে কঠিন বিপদ আপতিত হবে। ঐ বিপদ থেকে শুধু সেসব লোকই রেহাই পাবে, যারা আল্লাহ তা‘আলার দীন সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবে। সে তার নিজের মুখ, হাত ও অন্তর দ্বারা সত্যকে প্রকাশ করার জন্য জিহাদ করবে। এ ব্যক্তির সৌভাগ্য তার জন্য অগ্রগামী হয়েছে। অন্য আরেক ব্যক্তি হবে, যে আল্লাহ তা‘আলার দীন সম্পর্কে জানবে, এতে বিশ্বাস স্থাপন করবে। অন্য এক ব্যক্তি হবে, যে আল্লাহর দীন সম্পর্কে জানবে; কিন্তু চুপচাপ থাকবে। যখন কাউকে কোন নেক কাজ করতে দেখবে, তখন তাকে ভালোবাসবে। আর যখন কাউকে অসৎকাজ করতে দেখবে, তখন তাকে ঘৃণা করবে। এ ব্যক্তিও অন্তরে ভালোবাসা ও বিদ্বেষভাব লুকায়িত রাখার কারণে পরিত্রাণ পাবে।[1]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “أَوْحَى اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلٰى جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ: أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا قَالَ: يَارَبِّ إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ”. قَالَ: “فَقَالَ: اقْلِبْهَا عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ فَإِنَّ وَجْهَهٗ لَمْ يَتَمَعَّرْ فِىْ سَاعَةٍ قَطُّ
৫১৫২-[১৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ মহীয়ান-গরীয়ান জিবরীল (আ.)-কে আদেশ করেন যে, অমুক শহর বা জনপদটিকে সেটার বাসিন্দাসহ উল্টিয়ে দাও। তখন জিবরীল (আ.) বললেনঃ হে প্রভু! ঐ জনপদে তোমার অমুক বান্দা রয়েছে, যে এক মুহূর্ত তোমার নাফরমানি করেনি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তার ও তাদের সকলের ওপর শহরটিকে উল্টিয়ে দাও। কারণ ঐ ব্যক্তির মুখমণ্ডলে পাপীদের পাপাচার দেখে আমার সন্তুষ্টির জন্য এক মুহূর্তের জন্যও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ- সে পাপীদের পাপ এক মুহূর্তের জন্যও খারাপ মনে করেনি।[1]
এমনিভাবে সমাজের ভাল লোকেরা যদি পাপাচারে লিপ্তদের পাপ কাজে বাধা না দেন, তাহলে এ পাপের কারণে যে দুর্যোগ নেমে আসবে, তা থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
দ্বিতীয়ত : ব্যক্তির দায়িত্ব
মুসলমানের কর্তব্য, অতি তাড়াতাড়ি পাপ থেকে তওবা ও ইস্তেগফার করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের পাপের অংক নিজেই কষে দেখা। অনুরূপভাবে সৎকাজ বেশী-বেশী করা, যাতে সৎকাজগুলো পাপসমূহকে মিটিয়ে দেয়। উপরন্তু যেসব বিষয় মানুষকে পাপকাজে উদ্বুদ্ধ করে তা থেকে সর্বদা দূরত্ব বজায় রাখা।
মুুুফতি আমিনুল ইসলাম ওয়ালী
খতিব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ

প্যাথলজী কি, প্যাথলজীর শাখা সমুহ।

Pathology কি।
Pathology হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যে শাখায় রােগ, রােগের কারণ,রােগের কারণে দেহের পরিবর্তন, রােগ নির্ণয়ের পদ্ধতি ইত্যাদি বিস্তারিত আলােচনা করা
হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষনার প্রয়ােজনে প্যাথলজিকে বিভিন্ন শাখায় ভাগ করা হয়েছে।
যেমন :
1/Haematology (হেমাটোলজি)ঃ
প্যাথলজির যে শাখায় রক্ত সম্পর্কে বিস্তারিত যেমন
শরীরে স্বাভাবিক রক্তের গঠন, বিভিন্ন কারণে রক্তের বিভিন্ন কণিকার পরিবর্তন, রক্তের পরিবর্তনের কারণে যে সমস্ত রােগ হয় এবং এগুলাে কিভাবে নির্ণয় করা যায় তা নিয়ে
আলােচনা করা হয়েছে, তাকে haematology বলে।
2/ Immunology (ইমিউনােলজি): প্যাথলজির যে শাখায় শরীরের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা এবং এই ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণ সমূহ কি এবং কিভাবে নির্ণয় করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে, তাহাকে immunology বলে।
3/ Microbiology (মাইক্রোবায়ােলজি): আমাদের শরীরের অনেক রােগের জন্য দায়ী বিভিন্ন ধরণের virus, bacteria. চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় এদের নিয়ে বিস্তারিত
আলােচনা করা হয়েছে তাকে microbiology বলে।
4/ Parasitology (প্যারাসাইটোলজি): চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় Parasite বা পরজীবিদের জন্ম, মৃত্যু, বাসস্থান এবং এদের কারনে মানুষের কি ক্ষতি হয় এবং এদের উপস্থিতি কিভাবে নির্ণয় করা যায় তা আলােচনা করা হয়েছে, তাকে parasitology বলে।
4/ Bacteriology : চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় কি এবং
কোন Bacteria কিভাবে বংশ বিস্তার করে, কোন bacteria কি রােগ সৃষ্টি করে ইত্যাদি বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে, তাহাকে bacteriology বলে।
5/ Histopathology (হিস্টোপ্যাথলজি): চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় দেহের কোষ এবং কলার স্বাভাবিক বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরিণ গঠন পদ্ধতি নিয়ে আলােচনা করা হয় এবং কি
কারনে কোষ বা কলার গাঠনিক পরিবর্তন হতে পারে এবং তা কিভাবে নির্ণয় করা যায় তা আলােচনা করা হয়েছে, তাকে histopathology বলে।
6/ Mycology (মাইকোলজি): চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় fungus সম্পর্কে বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে, অর্থাৎ fungus কি, এর উৎপত্তি, প্রকারভেদ, কোন Fungus কি রােগ সৃষ্টি করে এবং কিভাবে fungus ধ্বংস করা যায়, তা আলােচনা করা হয়েছে, তাহাকে mycology বলে।
7/ Clinical pathology (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি): Pathology-র যে শাখায় রােগ নির্ণয়ের পদ্ধতি সমূহ অর্থাৎ কোন রােগ কি পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায় তা আলােচনা করা হয় তাকে clinical pathology বলে।
8/ Clinical biochemist : আমাদের শরীরে সব সময় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিএিয়া চলমান। এসব বিএিয়া এবং শরীরের বিভিন্ন গ্রন্হি থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয় বা শরীরের প্রয়োজন এ রক্তে থাকে। এসব পদার্থ এর কম বেশি হওয়ার কারনে শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন এবং এদের উপস্থিতির পরিমান মাপার জন্য যে আলোচনা করা হয় তাকে clinical biochemist বলে।
তথ্য সুএ – Clinical pathology.
Dr.Md.Liton miah
DHMS (Dhaka)
DMT ( Lab medicine)
BHMS (DU)
MSc in microbiology (prime Asia university)
mobile : 01766106616