করোনায় ব্যাপক ঝুঁকিতে কক্সবাজার এর স্বাস্থ্য কর্মীরা। কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ঈদ বোনাস এর দাবী তে মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সাহাবীর রক্ত পান সম্পর্কিত ঘটনা:

বামেলটেস এর রাঙ্গমাটি জেলা কমিটির অনুমোদন।

বামেলটেস এর পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির অনুমোদন।

বামেলটেস এর পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির অনুমোদন।
অদ্য ১৮ ই মে রোজ সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল ল্যাবরেটরী টেকনোলজিষ্ট সোসাইটির পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির ২১ সদস্যের অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় আহবায়ক ডাঃ মোহাম্মদ লিটন মিয়া ও সদস্য সচিব মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বিপ্লব । কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেনঃ-
সভাপতি,সুশীল জীবন চাকমা। সহ-সভাপতি,তয়ন চাকমা।
সাধারণ সম্পাদক, প্রভাত কুসুম চাকমা।
যুগ্ন সা:সম্পাদক, তিলক রত্ন চাকমা।
সাংগঠনিক সম্পাদক, সুজিত তালুকদার।
সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক,কলিন তালুকদার।অর্থ সম্পাদক,সুমন চাকমা.
সহ-অর্থ সম্পাদক, মিটন চাকমা। দপ্তর সম্পাদক,মো: সাইফুল ইসলাম। তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, তুরিন চাকমা।প্রকাশনা সম্পাদক, মহিউদ্দিন সোহেল।শিক্ষা ও প্রশিক্ষন সম্পাদক,জনি চাকমা।আইটি সম্পাদক, লোটাস দেওয়ান।সমাজসেবা সম্পাদক,মেস্কো চাকমা।ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক,মনিময় ত্রিপুরা।আইন সম্পাদক,স্মৃতিময় চাকমা।ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক,ইকন চাকমা।
ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা,পাপিয়া চাকমা।মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা,দীপা দেওয়ান।কার্যকরী সদস্য,১)ধনপ্রিয় চাকমা।কার্যকরী সদস্য,২)প্রিয়াংকা ত্রিপুরা (কেয়া)।

বেকার মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নেতা রিপন সরকার পল্লব এর মিথ্যা জিডি এর প্রতিবাদ।

বেকার মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নেতা রিপন সরকার পল্লব এর মিথ্যা জিডি এর প্রতিবাদ।

বাংলাদেশ আওয়ামী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট পরিষদ এর সদস্য সচিব শামীম শাহ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট পরিষদ এর সিনিয়র সহ সভাপতি শোকেন চন্দ্র নাহা এর নামে বেকার মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নেতা রিপন সরকার পল্লব এর মিথ্যা জিডি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল ল্যাবরেটরী টেকনোলজিষ্ট সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি এর আহ্বায়ক ডাঃ লিটন মিয়া সহ সংগঠন এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার এর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট এর রায় কে নিয়ে বার বার কটুক্তি ও করুচিপূর্ণ কথা বলে আসার পরেও টেকনোলজিষ্টদের বৃহত্তর কল্যানে আমরা চুপ ছিলাম। এ রকম কাজ বার বার করতে থাকলে আমরা আর বসে না থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবো। অবিলম্বে মিথ্যা জিডি প্রত্যাহার এর জোর দাবী জানাচ্ছি।

করোনার মহামারিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ডাঃ মোঃ আহনাফ করিম। মোহাম্মদ রবিউল্লা সুমন, জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর।

করোনার মহামারিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ডাঃ মোঃ আহনাফ করিম।
মোহাম্মদ রবিউল্লা সুমন, জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর।
বর্তমানে করোনার দুর্যোগে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভয়ঙ্কর অবস্থা বিদ্যমান। চিকিৎসক সংকটে সব ধরনের রোগীরা দিশেহারা। ঠিক সেই সময় গাজীপুর মহানগর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় (ফেয়ার ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার) নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একজন মানবিক চিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
লক ডাউন উপেক্ষা করে করোনার ভয়কে জয় করে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন রোগী দেখে যাচ্ছে। অত্র এলাকার সাধারন রোগীদের আশা ও ভরসার নাম ডাঃ আহনাফ করিম।
তিনি কোন সরকারি চাকরির বাধ্য বাধকতায় রোগী দেখছেন না। শুধু মাত্র মানবিকতা আর নিজের দ্বায়িত্ববোধ থেকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই লক ডাউনের মাঝেও প্রতিনিয়ত উনার চেম্বারের সামনে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষামান রোগীর দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। রোগীদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে আমরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে কিংবা ক্লিনিকে গেলে জ্বরের কথা বললে অনেকেই চিকিৎসা দিতে চায় না। অবশেষে আমরা স্যারের কাছ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের কাছ থেকে জানতে পেরে স্যারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিলাম। পরিক্ষা করে আমার টাইফয়েড জ্বর ধরা পড়েছে।
এই দুর্যোগের সময় আপনার চেম্বারের সামনে এতো রোগীর ভীর আপনার ভয় লাগে না স্যার?
এই প্রশ্নের জবাবে dainiksakalbd.com কে ডাঃ আহনাফ করিম বলেনঃ
‘’চাকরি যাওয়ার ভয় নাই আক্রান্ত হওয়ার ভয় আছে। আর একটা ভয় আমি সব চেয়ে বেশি পাই তা হলো একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি আমার দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারছি কি না। আমি চাকরির ভয়ে রোগী দেখছি না; সরকারি প্রনোদনা পাবো এই আশায় ও রোগী দেখছি না। আমি আমার বিবেকবোধ থেকে রোগী দেখতেছি। এখানে আমার সহকারী যারা আছে তাদেরকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই তারা এই দুর্যোগের সময় ভয় না পেয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আমি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগ প্রর্যন্ত এ মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাটেক’’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্যারের ব্যাক্তিগত সহকারী রেজাউল করীম আমাদের জানান ‘’ আপনারা স্যারকে সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত উক্ত চেম্বারে পাবেন। উনার সাক্ষাতকারের জন্য ০১৭৯১-৮৭২৫৮৮ এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারবেন’’।

আজ ১৭ রমজান: ঐতিহাসিক বদর দিবস, যে যুদ্ধ ইতিহাস বদলে দেয়।

আজ ১৭ রমজান: ঐতিহাসিক বদর দিবস, যে যুদ্ধ ইতিহাস বদলে দেয়।
মোহাম্মদ রবিউল্লাহ সুমন
আজ ১১ মে, ১৭ রমজান। ইসলামি ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দিন। ঐতিহাসিক বদর দিবস। মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্যকে সুউচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠার দিন। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের ইতিহাস। নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নেতৃত্বে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসের ১৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক এ বদর যুদ্ধ।
আজ ১৭ রমজান। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে তথা দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামে চিরস্মরণীয় ও গৌরবময় অধ্যায় বদর যুদ্ধ। এটি ছিল সত্য ও মিথ্যার, হক ও বাতিলের, মুসলিম ও কাফেরদের মধ্যকার ঐতিহাসিক যুদ্ধ। এবং এটি ছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। মদিনার অদূরে অবস্থিত একটি কূপের নাম ছিল বদর।
সেই সূত্রে এই কূপের নিকটবর্তী আঙিনাকে বলা হতো বদর প্রান্তর। এই বদর প্রান্তরেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিব নিরস্ত্র মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সঙ্গীদের বিজয়ী করেছিলেন হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার মোকাবেলায়।
ঘটনার সূত্রপাত : মদিনায় বইতে থাকা ইসলামের বসন্তের হাওয়া মক্কার কাফেরদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছিল। না জানি কখন এই হাওয়া দমকা হাওয়ায় রূপ নিয়ে তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়, কিংবা তাদের ব্যবসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই মুসলমানদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য অর্থ জোগান ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় করার উদ্দেশ্যে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার একটি বিশাল বাণিজ্য কাফেলা শামে গিয়েছিল। মক্কার প্রতিটি ঘর থেকে প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিয়ে গঠন করা হয়েছিল ৪০ জন সশস্ত্র অশ্বারোহী যোদ্ধার পাহারায় এক হাজার মালবাহী উটের একটি বাণিজ্যিক বহর।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিল মুসলমানরাও। তাই যখন তারা শাম থেকে ব্যবসা শেষে অস্ত্র নিয়ে ঘরে ফিরছিল, তখন তাদের ওপর হামলা করার সিদ্ধান্ত হলো। মুসলমানদের আত্মরক্ষার্থে হামলা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। বিষয়টি আবু সুফিয়ান টের পেয়ে দ্রুত সাহায্যের জন্য মক্কায় খবর পাঠায়। তবে খবরটি ছিল, মুসলমানরা আবু সুফিয়ানের কাফেলার ওপর হামলা করেছে। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আবু জাহেলের নেতৃত্বে এক হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার এক বিশাল বাহিনী মদিনা আক্রমণের জন্য বের হয়। অথচ মুসলমানরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু আবু সুফিয়ানকে আটকানো।
এই যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে যেসব বিষয় প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছিল তা ছিল নাখলার খণ্ডযুদ্ধ, কাফেরদের রণপ্রস্তুতি, আবু সুফিয়ানের অপপ্রচার, যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য ওহি লাভ, মক্কাবাসীর ক্ষোভ ইত্যাদি। আর পরোক্ষ কারণ হিসেবে দেখা হয়, মদিনা শরিফে সাফল্যজনকভাবে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কুরাইশদের হিংসা, আবদুল্লাহ বিন উবাই ও ইহুদিদের ষড়যন্ত্র, কুরাইশদের যুদ্ধের হুমকি, তাদের বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, কাফেরদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা, ইসলামের ক্রমবর্ধমান শক্তির ধ্বংসসাধন এবং রাসুল (সা.)-কে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার কাফেরদের অশুভ বাসনা।
যখন উভয় দল মুখোমুখি হলো
বদর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) পানির উৎস হিসেবে বদরের কূপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলেন এবং মধ্যরাতে কূপের কাছে পৌঁছে তাঁবু ফেললেন। সাহাবারা সেখানে হাউস বানালেন এবং বাকি সব জলাশয় বন্ধ করে দিলেন।
এরপর রাসুল (সা.) সেনাবিন্যাস করেন। উভয় বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হলো। এ সময় রাসুল (সা.) হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বললেন, ‘হে আল্লাহ, কুরাইশরা পরিপূর্ণ অহংকারের সঙ্গে তোমার বিরোধিতায় এবং তোমার রাসুলকে মিথ্যা প্রমাণ করতে এগিয়ে এসেছে। হে আল্লাহ, আজ তোমার প্রতিশ্রুত সাহায্যের বড় বেশি প্রয়োজন। আল্লাহ, তুমি আজ ওদের ছিন্নভিন্ন করে দাও। ’
রাসুল (সা.) এ সময় মুসলিম বাহিনীকে কাতারবন্দি করলেন। কাতার সোজা করার পর নবী (সা.) সাহাবিদের বললেন, তাঁর পক্ষ থেকে নির্দেশ না পেয়ে কেউ যেন যুদ্ধ শুরু না করে। তিনি সাহাবিদের সামনে নিজের যুদ্ধ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন। তিনি বললেন, পৌত্তলিকরা যখন দলবদ্ধভাবে তোমাদের কাছে আসবে, তখন তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে। তীরের অপচয় যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখবে। তারা তোমাদের ঘিরে না ফেলা পর্যন্ত তরবারি চালাবে না। এরপর নবী (সা.) হজরত আবু বকর (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান কেন্দ্রে চলে গেলেন।
যুদ্ধের প্রথম ইন্ধন ছিল আসওয়াদ ইবনে আবদুল আসাদ মাখজুমি। সে ময়দানে বের হওয়ার সময় বলছিল, আমি আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করছি যে ওদের হাউসের পানি পান করেই ছাড়ব। যদি তা না পারি, তবে সেই হাউসকে ধ্বংস বা তার জন্য জীবন দেব। অন্যদিকে সাহাবিদের মধ্য থেকে হজরত হামজা ইবনে আবদুল মোত্তালেব এগিয়ে যান এবং আসওয়াদকে হত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল। কুরাইশ বাহিনীর মধ্য থেকে তিনজন বিশিষ্ট যোদ্ধা বেরিয়ে এলো। তারা হলো রাবিয়ার দুই পুত্র ওতবা ও শায়বা এবং ওতবার পুত্র ওয়ালিদ। তাদের মোকাবেলায় আউফ, মুয়াউয়িজ ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। কুরাইশরা জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের পরিচয় কী? তারা বলল, আমরা মদিনার আনসার। কুরাইশরা বলল, তোমরা অভিজাত প্রতিদ্বন্দ্বী সন্দেহ নেই, কিন্তু তোমাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা স্ববংশীয় অর্থাৎ কুরাইশদের সঙ্গে লড়াই করতে চাই। তখন রাসুল (সা.) ওবায়দা ইবনে হারেস, হামজা ও আলী (রা.)-কে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাঁরা তিনজনই নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করেন। তবে হজরত হারেস (রা.) ওতবার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন। এভাবেই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই অমুসলিম বাহিনীর ব্যর্থতা ও হতাশার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠল। মুসলমানদের প্রবল আক্রমণে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। যুদ্ধের পরিণাম হয়ে উঠল সুস্পষ্ট। অন্যদিকে রাসুলে আকরাম (সা.) মুসলিম বাহিনীকে উদ্দীপ্ত করলেন এবং তাদের সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের সুসংবাদও দিলেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম বাহিনীর সাহায্যে ফেরেশতা প্রেরণ করলেন। আল্লাহর সাহায্য ও মুসলিম বাহিনীর বীরত্বের কাছে দাম্ভিক কুরাইশদের করুণ পতন হলো।
তৎকালীন সমাজ ও রাজনীতিতে বদর যুদ্ধের প্রভাব
ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মহান আল্লাহ এই যুদ্ধকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’—সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টকারী দিন বলে আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহর এই নামকরণ থেকেই বদর যুদ্ধের প্রভাব ও ফলাফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মূলত প্রতিষ্ঠিত শক্তি কুরাইশদের বিরুদ্ধে সদ্যঃপ্রসূত মদিনার ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য বদর ছিল অস্তিত্বের লড়াই। বদর যুদ্ধের বিজয় ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রথম রাজনৈতিক স্বীকৃতি। এ যুদ্ধই ইসলামী রাষ্ট্রের পথচলার গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বদর যুদ্ধের পূর্বাপর অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এই যুদ্ধ শুধু মদিনা নয়; বরং সমগ্র আরব উপদ্বীপে মুসলিম উম্মাহর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিল।
ঐতিহাসিকরা মনে করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পর মদিনায় যে ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়েছিল, তার প্রকৃত প্রতিষ্ঠা বদর প্রান্তে বিজয়ের মাধ্যমেই হয়েছিল। এই বিজয়ের আগে মদিনার মুসলিমরা ছিল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় মাত্র। কিন্তু কুরাইশদের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তির বিরুদ্ধে সামরিক বিজয় এই ধারণা পাল্টে দেয় এবং আরব উপদ্বীপে মদিনার মুসলিমদের একটি রাজনৈতিক পক্ষের মর্যাদা এনে দেয়। শুধু তা-ই নয়, বদর যুদ্ধ আরবের বহু মানুষের হৃদয়ের সংশয় দূর করে দেয় এবং তারা ইসলাম গ্রহণের সৎসাহস খুঁজে পায়। এ ছাড়া অসম শক্তির বিরুদ্ধে এই অসাধারণ বিজয় মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস।
আরবের অমুসলিমদের ওপরও বদর যুদ্ধের প্রভাব ছিল অপরিসীম। বদর যুদ্ধে কুরাইশ বাহিনীর ৭০ জন নিহত হয়। তাদের বেশির ভাগই ছিল শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা আরব বীর। আবু জাহেল, উতবা ইবনে রাবিয়া, শায়বা ইবনে রাবিয়া, ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা, নদর বিন হারেস ও উমাইয়া বিন খালাফের মতো কুরাইশ নেতাদের করুণ মৃত্যু তাদের হৃদয়াত্মাকে কাঁপিয়ে দেয় এবং তাদের চোখ থেকে অহমিকার পর্দা সরে যায়। কারণ সমকালীন ইতিহাসে কুরাইশ গোত্রের এমন বিপর্যয় আরবরা দেখেনি।
এ ছাড়া বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয় কুরাইশদের অবাধ বাণিজ্য এবং আরবের অন্যান্য গোত্রের ওপর অন্যায় প্রভাব খাটানোর পথ বন্ধ করে দেয়। মদিনার উপকণ্ঠে ডাকাতি ও লুণ্ঠনের যে ধারা যুগ যুগ ধরে চলে আসছিল—যার পেছনে কুরাইশ নেতাদের সহযোগিতা ও প্রশ্রয় ছিল, তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মুসলিম বাহিনীর এই বিজয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে মদিনা ও আশপাশের সর্বস্তরের মানুষ। তারা স্বাগত জানায় সত্যপক্ষের এই মহান বিজয়কে।
জ্ঞান বিতরণের শর্তে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি
বদর যুদ্ধে বিপুলবৈভব কুরাইশদের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর অভাবনীয় বিজয় অর্জিত হয়। এই যুদ্ধে ৭০ জন কুরাইশ যোদ্ধা নিহত হয় এবং সমপরিমাণ ব্যক্তি বন্দি হয়। যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছার পর সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, ওরা তো চাচাতো ভাই এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজন। আমার মত হলো, ওদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হোক। এতে অর্জিত সম্পদ অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তিতে পরিণত হবে। আর এমনও হতে পারে, আল্লাহ তাআলা তাদের হিদায়াত দেবেন এবং তারা একসময় আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।
হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ভিন্ন মত দিলেন। তিনি বললেন, কুরাইশ যোদ্ধাদের হত্যা করা হোক, যেন ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের সাহস কেউ না পায়। এ ছাড়া এ যুদ্ধবন্দিরা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতি অবিশ্বাসী শিবিরকে দুর্বল করে দেবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবুবকরের পরামর্শ গ্রহণ করলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হজরত ওমরের সিদ্ধান্তটিই অধিক সঠিক ছিল বলে জানিয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিকটবর্তী একটি গাছের প্রতি ইশারা করে বললেন, আমার কাছে ওদের আজাব এই গাছের চেয়ে নিকটতর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। (তারিখে ওমর ইবনে খাত্তাব, ইবনে জওজি, পৃষ্ঠা ৩৬)
তবে আল্লাহ তাআলা ফিদইয়া গ্রহণের সিদ্ধান্তের বৈধতা দেন এবং প্রদেয় মুক্তিপণকে মুসলিমদের জন্য হালাল ঘোষণা করেন। তবে আল্লাহ তাআলা এ জন্য করেছেন যে তারা শুধু যুদ্ধবন্দি ছিল না; বরং তারা ইসলাম, মুসলমান ও মানবতার বিরোধী অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
যুদ্ধবন্দিদের কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের পরিমাণ ছিল এক হাজার থেকে চার হাজার দিরহাম পর্যন্ত। যাদের মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না, তাদের পেশা দক্ষতার বিনিময়ে মুক্তি লাভের সুযোগ দেওয়া হয়। যেমন— মক্কাবাসী লেখাপড়া জানত। পক্ষান্তরে মদিনায় লেখাপড়া জানা লোকের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফলে যাদের মুক্তিপণ প্রদানের সামর্থ্য নেই এবং লেখাপড়া জানে, তাদের সুযোগ দেওয়া হলো যে তারা মদিনায় ১০টি করে শিশুকে লেখাপড়া শেখাবে। শিশুরা ভালোভাবে লেখাপড়া শেখার পর শিক্ষক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কয়েকজন বন্দিকে বিশেষ দয়া করায় তাদের কাছ থেকে ফিদইয়া গ্রহণ করা হয়নি, এমনিতেই মুক্তি দেওয়া হয়। তারা ছিল মোত্তালিব ইবনে হানতাব, সাঈফি ইবনে আবু রেফায়া ও আবু আযযা জুমাহি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জামাতা আবুল আসকে এই শর্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন যে তিনি নবীনন্দিনী হজরত জয়নব (রা.)-র পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
এর কারণ ছিল যে হজরত জয়নব (রা.) আবুল ইবনে আসের ফিদইয়া হিসেবে কিছু সম্পদ পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি হারও ছিল। হারটি হজরত খাদিজা (রা.) হজরত জয়নব (রা.)-কে আবুল আসের ঘরে পাঠানোর সময় উপহারস্বরূপ দিয়েছিলেন। মহানবী (সা.) তা দেখে অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন এবং আবেগে তাঁর কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে। তিনি আবুল আসকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সাহাবাদের মতামত চান। সাহাবারা প্রিয় নবী (সা.)-এর এই প্রস্তাব সশ্রদ্ধভাবে অনুমোদন করেন। অতঃপর মহানবী (সা.) তাঁর জামাতা আবুল আসকে এই শর্তে ছেড়ে দেন যে তিনি হজরত জয়নব (রা.)-কে মদিনায় আসার সুযোগ করে দেবেন। স্বামীর অনুমতি পেয়ে জয়নব (রা.) মদিনায় হিজরত করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত জায়েদ ইবনে হারেসা এবং অন্য একজন আনসারী সাহাবিকে মক্কায় প্রেরণ করেন। তাদের বলা হয়, তোমরা মক্কার উপকণ্ঠ অথবা জাজ নামক জায়গায় থাকবে। হজরত জয়নব (রা.) তোমাদের কাছ দিয়ে যখন যেতে থাকবেন, তখন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আসবে। এই দুজন সাহাবি মক্কায় গিয়ে হজরত জয়নব (রা.)-কে মদিনায় নিয়ে আসেন। হজরত জয়নব (রা.)-এর হিজরতের ঘটনা অনেক দীর্ঘ এবং মর্মস্পর্শী।
আল কোরআনে বদর যুদ্ধ
বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়, যা অসত্যের বিরুদ্ধে আজন্ম সংগ্রামের অনন্ত অনুপ্রেরণা। শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বরং মানবজাতির ইতিহাসে এটা অনন্য এক ঘটনা। মহান আল্লাহও পবিত্র কোরআনে এই দিনের স্বীকৃতি দিয়েছেন নানাভাবে। তিনি কোরআনে উভয় পক্ষের শক্তির পার্থক্য, মুসলিম উম্মাহর প্রতি তাঁর অনুগ্রহ এবং কম্পমান একটি অবস্থা থেকে মুসলিম বাহিনীর ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছেন। সাহসিকতা এই সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী দিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরান ও সুরা আনফালে বদর যুদ্ধের সবিস্তার বর্ণনা এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, সুরা আনফাল বদর যুদ্ধ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। এ সুরায় যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যুদ্ধবন্দি, ফেরেশতাদের অংশগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর আলোচনা রয়েছে। আর সুরা আলে ইমরানে মুসলমানদের অবস্থা, আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভবিষ্যতেও সাহায্যের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
বদর যুদ্ধের অবস্থা তুলে ধরে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন। অথচ তোমরা ক্ষীণশক্তি। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২৩)
এই সাহায্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘আর আল্লাহ এটা করেছেন, তোমাদেরকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। সাহায্য শুধু মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২৬)
শুধু বদর নয়, বরং ভবিষ্যতেও আল্লাহ আসমানি এই সাহায্যের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বরং তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো, আল্লাহকে ভয় করো এবং তারা দ্রুতগতিতে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের পাঁচ হাজার ফেরেশতার সুবিন্যস্ত বাহিনী দ্বারা সাহায্য করবেন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২৫)
সুরা আনফালের ৬৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের অনুরূপ সাহায্যের অঙ্গীকার করেছেন।
সুরা আনফালে আল্লাহ তাআলা বদর প্রান্তে মুসলিম বাহিনীর অবস্থানের প্রসংশা করে বলেছেন, ‘স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে নিকট প্রান্তে এবং তারা ছিল দূর প্রান্তে। উষ্ট্রারোহী দল ছিল তোমাদের চেয়ে নিম্নভূমিতে। ’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৪২)
এর পরের আয়াতেই আল্লাহ মুমিনদের সাহস জোগানোর একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো! যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন, তারা সংখ্যায় অল্প। যদি তিনি তাদের সংখ্যায় বেশি দেখাতেন তবে তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করতে। কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের খবর জানেন। ’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৩)
সুরা আনফালের ৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ফেরেশতাদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘যদি তুমি দেখতে ফেরেশতারা অবিশ্বাসীদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং বলছে, তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ করো। ’
একই সুরার ৬৭ থেকে ৭১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা যুদ্ধবন্দিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই আয়াতে অর্থের বিনিময়ে বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তবে পরের আয়াতে এই সিদ্ধান্তের বৈধতাও দেওয়া হয়। যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে বলা হয়, যদি তাদের উদ্দেশ্য ভালো হয় তবে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর যদি তাদের উদ্দেশ্য মন্দ হয় তবে আল্লাহ মুমিনদের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেবেন।
সর্বোপরি বলা যায়, এ দুই সুরায় আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেছেন।
বদরে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের অনন্য মর্যাদা
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ বদর, যা নানাভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা প্রথম সত্য-মিথ্যার বিভাজন স্পষ্ট করেছিলেন। ইসলামকে সম্মানিত ও কুফরি শক্তিকে অপদস্থ করেছিলেন। ইসলামের প্রধান শত্রুদেরও আল্লাহ বিনাশ করেছিলেন বদরের প্রান্তে। মানব ইতিহাসের নজিরবিহীন এই ঘটনাকে বলা হয় মুসলিম উম্মাহর সাফল্যের প্রবেশপথ, যা যুগ যুগ ধরে এই জাতিকে সত্যের পথে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছে।
কিন্তু বিজয় নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ মৃত্যু ও ধ্বংসের মুখে নিজেকে ঠেলে দেওয়া। কেননা এই যুদ্ধ ছিল দুটি অসম প্রতিপক্ষের লড়াই। একদিকে ছিল আধুনিক অস্ত্র ও বাহনে সমৃদ্ধ সহস্র সৈনিকের কুরাইশ বাহিনী, অন্যদিকে ছিল সামান্য অস্ত্র ও রিক্তহস্ত মুসলিম বাহিনী। পৃথিবীর সব পরিসংখ্যানে এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর পরাজয় ছিল অবধারিত। কিন্তু আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয়ী করেছিলেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় যারা নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় ও মৃত্যুর মুখে সমর্পণ করেছিল আল্লাহ তাআলা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেন।
পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত দ্বারা বদর যুদ্ধের এবং অসংখ্য হাদিস দ্বারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মর্যাদা প্রমাণিত। হজরত রাফায়া ইবনে রাফে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। হজরত জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের কিভাবে মূল্যায়ন করেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সর্বোত্তম মুসলিম হিসেবে অথবা অনুরূপ কিছু। হজরত জিবরাঈল (আ.) বলেন, অনুরূপ ফেরেশতাদের মধ্যেও যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৭১)
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, অপর হাদিসে রাসুলে আকরাম (সা.) বদর যুদ্ধে শহীদ একজন সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ দান করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসে মহানবী (সা.) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষমার সুসংবাদ দান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবগত আছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের যা ইচ্ছা করো। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। ’ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ‘এমন মহান সুসংবাদ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছাড়া আর কেউ পায়নি। ’ (ফাতহুল বারি, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা ৩০৫)
একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত জাবের (রা.) বর্ণিত, হজরত হাতেব (রা.)-এর একজন দাস রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে তার বিরুদ্ধে নালিশ করল এবং সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), নিশ্চয় হাতেব জাহান্নামে যাবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। সে জাহান্নামে যাবে না। কেননা সে বদর ও হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৯৫)
বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীদের এই অপরিমেয় সম্মান ও মর্যাদার কারণ ব্যাখ্যা করে আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এটা নিছক কোনো যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এর প্রকৃত রূপ ছিল অকল্পনীয় রকম কঠিন এবং প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এ জন্য শরিয়ত প্রণেতা [রাসুলুল্লাহ (সা.)] তাদের মর্যাদাপূর্ণ জান্নাত ফেরদাউসের উচ্চ স্তর লাভের ঘোষণা দিয়েছেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা ২৫৮)

করোনা পরীক্ষায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট চরমে

করোনা পরীক্ষায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট চরমে
দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার চাপ। হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে রোগীদের লম্বা লাইন। নমুনা সংগ্রহে বিলম্ব, পরীক্ষায় বিলম্ব ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, করোনা রোগীর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এতে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। এই দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংকট এখন সারাদেশেই চরম আকার ধারণ করেছে। ল্যাবরেটরিতে কর্মীরা টানা কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় শনাক্তকরণ পরীক্ষার ওপর।
কিন্তু যে হারে করোনা রোগী বাড়ছে সে হারে বাড়ছে না পরীক্ষার সুযোগ ও সুবিধা। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে কর্মী ও জনবল সংকট কাটিয়ে ওঠার জোর তাগিদ দিচ্ছেন। তাদের মতে, আগামী দিনে আরো ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার সুবিধা ও সুযোগ বাড়াতে হবে। চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি বাড়াতে হবে ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট এবং তা জরুরি ভিত্তিতে।
রসায়নাগারের কর্মীদের নিয়মিত অনলাইনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং জাতির এই সংকটে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টরা জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পরে তা পরীক্ষা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কাজটি করতে হয় মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদেরই। সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৪ হাজার ২০০ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র দেড় হাজার জন।
বাংলাদেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মো. আশিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারণ একটাই; আর তা হলো, টেকনোলজিস্ট একেবারেই কম। তড়িঘড়ি করে টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করাও সম্ভব নয়। আবার রাতারাতি এই টেকনোলজিস্ট তৈরি করাও সম্ভব নয়। তারপরও প্যারামেডিকেল থেকে পাশ করে যারা বেকার আছেন তাদেরকে আপদকালীন বা স্থায়ীভাবে নিয়োগের কোন উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের টেস্টিং ক্যাপাসিটি আছে ৫ হাজার। কিন্তু আমরা তো ৩ হাজারও করতে পারছি না। এর কারণ হচ্ছে আমাদের দক্ষ জনবলের সংকট। এ মুহূর্তে বেশি বেশি পরীক্ষার বিকল্প নেই। অনেক টেকনোলজিস্ট পাস করে বসে আছেন। চুক্তিভিত্তিক হলেও তাদের নিয়োগ দিতে হবে। শুধু তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে মাঠে নামাতে হবে।
কয়েকদিন আগে দেখা গেছে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজে বসানো ল্যাবে পাঠানো নমুনা বাতিল হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতিতে ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছে ল্যাব কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ বলেন, তাদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এ বিড়ম্বনা হতো না।
দিন দিন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, করোনায় রোগীদের চিকিৎসার বেলায় বয়সে প্রবীণ চিকিৎসকের কথা চিন্তা করা যাবে না।
কারণ, করোনা ঝুঁকির বেলায় বয়সও একটা বড় বিষয়। অনেকের ডায়াবেটিস বা অন্যান্য রোগও আছে। সেক্ষেত্রে করোনার চিকিৎসায় তরুণ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা চিন্তা করতে হবে।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট নিবন্ধিত নার্স ৭৩ হাজার ৯১০ জন। তাদের মধ্যে সরকারি চাকরিতে আছেন ৩২ হাজার ৫৮৫ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬ হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সেবা দিচ্ছেন প্রায় ৪০ হাজার নার্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী, নার্সের ঘাটতি আছে। বর্তমানে দেশে বেকার আছেন ৩০ হাজারের বেশি নার্স।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে, আইসোলেশনে থাকা প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে তা নেই। এতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি চিকিৎসক দেওয়ার জন্য। নতুন চিকিৎসক যারা, তাদেরও দিচ্ছি। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের নিয়েও ভাবা হচ্ছে।’

স্বামীকে ভালোবাসা নিয়ে সুন্দর লেখা লিখেছেন এমটি সজল।

★স্বামীকে ভালোবাসুন
কারন, যদি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করার হুকুম থাকতো সে হতো আপনার স্বামী।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে ঘরে ফিরে আসে, এক টুকরো মিষ্টি হাসির মাধ্যমে। কারন সে আপনার হালাল রিজিকের চেষ্টায় সারাদিন খাটনি করে ক্লান্ত দেহে বাড়ী ফিরেছে।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনাকে বলে, বৌ! তুমি আমার মা- বাবা পরিবার পরিজনের খেদমত করো। কারন এই মা-বাপ ছাড়া আপনি আপনার স্বামীটিকেই পেতেন না, আর আপনার স্বামীর জান্নাত, আয় উন্নতি তার মা-বাবার দোয়া, সন্তুষ্টির মাধ্যম যা আপনার সাথে জড়িত।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে বলে, বৌ! সংসারের কাজের পাশাপাশি ওয়াক্ত মতো নামাজটাও পড়ে নিও। কারন সে জান্নাতেও আপনার সাথেই থাকতে চায়।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনাকে পরিপূর্ণ পর্দার সাথে চলতে বলে, কারন সে চায়না তার সুন্দরী বৌটিকে অন্য কোন পরপুরুষ দেখে ফেলুক এবং তার বৌ গুনাহগার হোক।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনাকে একাকী বাহিরে বের হতে নিষেধ করে, কারন সে জানে মাহরাম পুরুষ ছাড়া অযথা মেয়েদের জন্য বাইরে বের হওয়া হারাম।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনার জন্য কোন গিফট নিয়ে আসে, যদিও তা কম দামী হয়, বা আপনার পছন্দ না হয়। কারন সে ভালোবাসে বলেই আপনাকে সারপ্রাইজ দিয়েছে।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনাকে সবসময় পরিপাটি হয়ে থাকতে বলে, কারন সে অন্য সকল নারীর থেকে দৃষ্টি হেফাজত করতে চায়।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনার কাছে একটু সোহাগ কামনা করে, কারন সে অন্য নারীতে আসক্ত নয়।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনার কাছে নিজেকে জাহির করতে চায়, কারন সব হাজবেন্ড-ই চায় তার স্ত্রীর কাছে সে হিরো হয়ে থাকুক।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে অসময়ে আপনার হাতের বিশেষ কোন আইটেমের খাবার খেতে চায়, কারন সে ভালবাসার মানুষটির সেই রান্নাটাকে এখন মিস করছে।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে কোন কারনে আপনার সাথে অভিমান করে, কারন অতিমাত্রায় ভালোবাসা থেকেই কিন্তু অভিমান সৃষ্টি হয়।
★স্বামীকে ভালোবাসুন
যখন সে আপনার লাইফ পার্টনার, যার সাথে জীবনটা পার করবেন বলে মা- বাবার ঘর ছেড়েছেন তাকে যদি ভালো না বাসেন তবে জীবনটা পার করবেন কি করে ?
♥পরিশেষে একটি বিশেষ সতর্কবাণীঃ-
স্বামী যখন কোন কারনে রেগে যায় তখন ভুল করেও আপনি তর্ক করতে যাবেন না। একেবারে চুপ করে থাকবেন। যদিও আপনি নির্দোষ ছিলেন। আর দোষ থাকলে তো কথাই নাই। এক্কেবারে চুপ। রাগ থেমে গেলে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন, তখন সে নিশ্চয়ই লজ্জিত হবে এবং পরবর্তীতে এমনটি হবে না।
আর স্বামীর কাছে কোনকিছুর আবদার করার হলে অবশ্যই তার মন- মর্জি সামর্থ্যানুযায়ী বুঝে আবদার করবেন। প্রয়োজনে একটু পটিয়েও নিতে পারেন। দেখবেন আকাশের চাঁদও হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত সে।
আল্লাহ আমাদের সাংসারিক জীবনকে জান্নাতি জীবনের মতো করে দিন, আমীন♥